আলিম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশনবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য সময় বাড়ালো মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড

আলিম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশনবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য সময় বাড়ালো মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড

 

শিক্ষা ডেস্ক

আলিম শ্রেণির ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বিবেচনায় অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত শিক্ষার্থীরা আগামী ১ মার্চ পর্যন্ত অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দিতে পারবেন এবং তথ্য এন্ট্রি সম্পন্ন করা যাবে ৩ মার্চ পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার বোর্ডের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন আলিম পর্যায়ে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষার্থী (পরীক্ষা-২০২৭) হিসেবে যেসব শিক্ষার্থী এখনো অনলাইনে কোনো মাদ্রাসায় ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারেননি, তাদের জন্য এ বিশেষ সুযোগ প্রদান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের ইলেকট্রনিক স্টুডেন্ট ইনফরমেশন ফরম (ইএসআইএফ) পূরণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বোর্ড জানায়, বর্ধিত সময়সীমা অনুযায়ী ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দেওয়া যাবে। তথ্য এন্ট্রি ও প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন করার শেষ সময় ৩ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ইতোমধ্যে দেশের সব মাদ্রাসা প্রধানের কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা সময়মতো প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারে।

ফি সংক্রান্ত তথ্যে বলা হয়েছে, আলিম শ্রেণির নিয়মিত শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য নির্ধারিত ফি মোট ৬৮৫ টাকা। অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পাঠবিরতি ফি ১৫০ টাকাসহ মোট ৮৩৫ টাকা পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি পরিশোধ ও তথ্য এন্ট্রি সম্পন্ন না হলে পরবর্তীতে রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ থাকবে কি না, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কোনো উল্লেখ নেই।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত আলিম পর্যায় উচ্চমাধ্যমিক সমমানের শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার সমপর্যায়ের আলিম পরীক্ষা নির্দিষ্ট শিক্ষাবর্ষ শেষে অনুষ্ঠিত হয়। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পূর্বশর্ত। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে না পারলে শিক্ষার্থীদের এক শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা, অনলাইন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দেরি এবং কিছু ক্ষেত্রে ভর্তি কার্যক্রম বিলম্বিত হওয়ায় কয়েকজন শিক্ষার্থী সময়মতো রেজিস্ট্রেশন করতে পারেননি। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বোর্ড বিশেষ সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে রেজিস্ট্রেশনবঞ্চিত শিক্ষার্থীরা পুনরায় প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, অনলাইনভিত্তিক রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থার ফলে তথ্য সংরক্ষণ, যাচাই ও পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলা না হলে শিক্ষার্থীরা নানা প্রশাসনিক জটিলতায় পড়তে পারেন। তাই মাদ্রাসা প্রধানদের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত ইএসআইএফ পূরণ ও ফি পরিশোধ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বোর্ডের এ সিদ্ধান্তের ফলে যেসব শিক্ষার্থী পূর্বে রেজিস্ট্রেশন থেকে বাদ পড়েছিল, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরীক্ষা-২০২৭-এ অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

শিক্ষা শীর্ষ সংবাদ