আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরায়েল সম্ভাব্যভাবে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে। দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেলে তারা ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করতে পারবে।
ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টার ‘কান’ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা যে কোনো সময় যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশ পাওয়ার সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলা চালানোর অনুমতি দেবেন কি না, সে বিষয়ে দেশটি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ইসরায়েলের একাধিক সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইতোমধ্যেই তাদের সামরিক পর্যবেক্ষণ তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। ইসরায়েলের ‘হারেৎজ’ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার সম্ভাবনা বেড়ে চলেছে।
ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগের বিষয়। ইসরায়েলের সামরিক কৌশল বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল স্থাপনাগুলোকে ধ্বংস করার ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে, বিশেষত যখন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থান অনিশ্চিত।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সংঘাত সম্ভাবনা ইতোমধ্যেই ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ইসরায়েলের পরিকল্পিত হামলা বাস্তবায়িত হলে, তা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার ভবিষ্যৎ এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপের উপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এবং কূটনৈতিক সূত্রে বলা হয়েছে, ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হলে তা সীমিত এবং নির্দিষ্ট ধরনের হতে পারে। তবে, এটি কার্যকর করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি এবং অনুমোদন অপরিহার্য বিবেচনা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ একটি জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে যে কোনো সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর তার প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ।


