ঈদের আগে প্রাথমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ঘোষণা

ঈদের আগে প্রাথমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক

আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে প্রাথমিক পর্যায়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ ও নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, চলমান সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পসমূহ অব্যাহত রেখে নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম অবহিতকরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সমাজকল্যাণ ও নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের অধীনে বর্তমানে যে উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চলমান রয়েছে, সেগুলো বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত প্রতিশ্রুতির আলোকে ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ঈদের আগে সীমিত পরিসরে এর বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। তিনি জানান, ধাপে ধাপে উপকারভোগী নির্বাচন ও কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়া সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য নির্দিষ্ট ভর্তুকি, খাদ্য সহায়তা বা অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা সহজতর করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলমান রয়েছে, যাতে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করা যায়।

সভায় মন্ত্রী প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, মানুষের সেবা নিশ্চিত করাই মন্ত্রণালয়ের প্রধান লক্ষ্য। প্রয়োজন হলে প্রাতিষ্ঠানিক বিধি-বিধানের আলোকে কার্যপদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে সেবাদান প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, স্বল্প সময়ে অনিয়ম দূরীকরণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সে প্রেক্ষাপটে জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমকে অধিক কার্যকর করতে হবে। বিশেষ করে দরিদ্র, প্রতিবন্ধী, প্রবীণ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দকৃত কর্মসূচিগুলো যাতে সময়মতো বাস্তবায়িত হয়, সে বিষয়ে তদারকি জোরদারের কথা জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ফলাফলভিত্তিক পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। উন্নয়ন কার্যক্রম কেবল নথিপত্রে সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি জনগণের উপকারে আসে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সীমিত বাজেটের মধ্যেই অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করে পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

সভায় মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপন করা হয়। সেখানে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ, উপকারভোগী তালিকা হালনাগাদ, ডিজিটাল ডাটাবেজ উন্নয়ন এবং সেবার মানোন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঈদের আগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হলে তা নিম্নআয়ের মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নের জন্য স্বচ্ছ উপকারভোগী নির্বাচন, কার্যকর তদারকি এবং সুশাসন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে। সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ