আবহাওয়া ডেস্ক
আজ বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ইউরোপিয়ান-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১। এর উৎপত্তি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায়। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরও এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মাই আর্থকোয়েক অ্যালার্ট জানায়, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ঢাকা থেকে প্রায় ১৮১ কিলোমিটার দূরে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক এলাকায়। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিলেট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসাইন জানিয়েছেন, ভূমিকম্পটির মাত্রা রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ১০ এবং এর গভীরতা স্বল্প হওয়ায় আশপাশের এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬২৬ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত। বিশেষজ্ঞরা জানান, এতদূর উৎপত্তিস্থল থাকায় কম্পনের তীব্রতা সীমিত এবং সাধারণ মানুষের জীবন ও অবকাঠামোর ওপর তাত্ক্ষণিক প্রভাব নেই।
বাংলাদেশে ভূমিকম্প সাধারণত কম গভীরতাসম্পন্ন হলে স্থানীয়ভাবে কম্পন অনুভূত হয়, কিন্তু গভীর উৎপত্তিস্থলে হলে কম্পন বেশি এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থায়ী অবকাঠামোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রস্তুতি ও ভূমিকম্পপ্রতিরোধী মান অনুসরণের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এই ভূমিকম্পের পরে স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি মনিটর করছে। তারা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য সচেতন করেছেন এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য কম্পন বা অনন্য পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থান করছে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের ঘটনা সময় সময় ঘটতে থাকে। এ ধরনের কম্পন স্থানীয় অবকাঠামোতে তাত্ক্ষণিক ক্ষতি সাধন না করলেও জনসচেতনতা ও প্রস্তুতি নিশ্চিত করার গুরুত্ব রয়েছে।


