ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় সেনাবাহিনীর সার্জেন্টসহ দুজন নিহত

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় সেনাবাহিনীর সার্জেন্টসহ দুজন নিহত

 

ময়মনসিংহ — জেলা প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ফুলপুরে সরকারি দায়িত্ব পালনের পর ফেরার পথে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সার্জেন্ট শেখ রেজাউল কবীর এবং বাসচালক আব্দুল বাসেত নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনা বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে ফুলপুর পৌরসভার বালিয়া মোড় সংলগ্ন কাকলি রাইস মিলের সামনে ঘটে। এতে অন্তত আরও ৮ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যাত্রীবাহী বাস এবং সেনাবাহিনীর একটি ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ায়। দুর্ঘটনার ফলে ঘটনাস্থলেই সার্জেন্ট শেখ রেজাউল কবীর এবং বাসচালক আব্দুল বাসেত মারা যান। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর সার্জেন্ট শেখ রেজাউল কবীরের পরিবারের সদস্যরা সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের পরিবারকে সহায়তা প্রদান করছেন।

এ ঘটনায় জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরা শোক প্রকাশ করেছেন। জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে নিহত সার্জেন্টের ছবি পোস্ট করে শোক প্রকাশ করেন এবং নিহত ও আহতদের জন্য দোয়া করেন। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, “প্রিয় দেশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ ধরনের মর্মান্তিক প্রাণহানি জাতির জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।” এছাড়া শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, সার্জেন্ট শেখ রেজাউল কবীর দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তার মৃত্যু সেনাবাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিটে শোকের ছায়া ফেলেছে।

ফুলপুর উপজেলার সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার অভিযান চালানো হয় এবং আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রশাসন দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়ের জন্য তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে, সড়কের ব্যস্ত এলাকায় নিয়ন্ত্রণহীন গতিবেগ এবং গাড়ি পরিচালনার অদক্ষতা দুর্ঘটনার মূল কারণ হতে পারে।

ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় টাফের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা দুর্ঘটনার আশঙ্কাজনক স্থানগুলোতে নিরাপত্তা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এ ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা দেশের নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা ও পরিবহন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুনভাবে আলোচনা তোলার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত ট্রাফিক নজরদারি, গাড়ি পরিচালনায় প্রশিক্ষণ, এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়কে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এ ধরনের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ নিহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ