উত্তর কোরিয়ায় ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির কংগ্রেস শুরু, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দিকনির্দেশনার আভাস

উত্তর কোরিয়ায় ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির কংগ্রেস শুরু, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দিকনির্দেশনার আভাস

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়া তাদের জাতীয় কংগ্রেস শুরু করেছে। শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। রাজধানী পিয়ং ইয়ং–এ আয়োজিত এ সম্মেলনে শীর্ষ নেতা কিম জং উন উদ্বোধনী ভাষণ দেন। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এবারের কংগ্রেসে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির পরবর্তী ধাপ এবং সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় নীতিমালা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, পিয়ং ইয়ংয়ের ‘হাউস অব কালচার’-এ আয়োজিত সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি, সামরিক ও প্রশাসনিক শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। সাধারণত পাঁচ বছর অন্তর এই কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয় এবং দলীয় নীতিনির্ধারণ, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, প্রতিরক্ষা কৌশল ও সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির রূপরেখা এখানেই নির্ধারিত হয়। পূর্ববর্তী কংগ্রেসগুলোর মতো এবারের আয়োজনও সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শনের মাধ্যমে শেষ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে কিম জং উন বলেন, ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ কংগ্রেসের পর দেশটি ‘সবচেয়ে কঠিন সময়’ অতিক্রম করেছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি চাপে পড়েছিল বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। কিম বলেন, দেশ এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রত্যাশা ও আত্মবিশ্বাসের পর্যায়ে প্রবেশ করছে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র ও সামাজিক জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্রুত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে দল ঐতিহাসিক দায়িত্বের মুখোমুখি। আবাসন নির্মাণ, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি খাতে স্বনির্ভরতা এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের বিষয়গুলো কংগ্রেসের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর প্রধানত দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর। কিম জং উন পূর্বেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এবারের কংগ্রেসে পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হবে। উত্তর কোরিয়া আট বছরেরও বেশি সময় আগে সর্বশেষ পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়। এরপর থেকে দেশটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রে বহনযোগ্য ক্ষুদ্রাকৃতির পারমাণবিক ওয়ারহেড উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কারণে দেশটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপিত কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞা দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য, জ্বালানি আমদানি ও আর্থিক লেনদেনে প্রভাব ফেলেছে। ফলে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্ব বাড়িয়েছে পিয়ং ইয়ং।

বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসে পারমাণবিক অগ্রগতি এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক সম্পর্ক—বিশেষত চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা—উল্লেখযোগ্যভাবে তুলে ধরা হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়া তার কৌশলগত অবস্থান পুনর্নির্ধারণের চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক কাঠামো ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত সীমিত তথ্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এ ধরনের কংগ্রেস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের সম্মেলনের সিদ্ধান্ত দেশটির অর্থনৈতিক সংস্কার, প্রতিরক্ষা নীতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

কংগ্রেসের কার্যক্রম কয়েক দিনব্যাপী চলবে বলে জানা গেছে। সমাপনী অধিবেশনে গৃহীত প্রস্তাব ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হতে পারে। আন্তর্জাতিক মহল এখন সেই ঘোষণার দিকেই নজর রাখছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ