বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৩৪ হাজার ৭৭৯ দশমিক ০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দুই দিনের ব্যবধানে রিজার্ভে প্রায় ২৪০ মিলিয়ন ডলার যুক্ত হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ (Balance of Payments and International Investment Position Manual, Sixth Edition) পদ্ধতি অনুসারে একই সময়ে দেশের রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৬৪ দশমিক ৩২ মিলিয়ন ডলার বা ৩০ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলারে। ১৭ ফেব্রুয়ারি এ হিসাব ছিল ২৯ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার।

আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ গণনার ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক দায়-দেনা বাদ দিয়ে প্রকৃত বা নিট রিজার্ভ নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ গ্রস রিজার্ভ থেকে বিভিন্ন দায় সমন্বয় করার পর যে অর্থ অবশিষ্ট থাকে, সেটিই নিট রিজার্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে আইএমএফ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে এ পদ্ধতি অনুসরণ করে রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ করতে হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরের শুরুতে রিজার্ভের অবস্থান তুলনামূলকভাবে নিম্নমুখী ছিল। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের শেষে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নেমে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বৈদেশিক সহায়তা, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় প্রবাহ এবং আমদানি ব্যয়ের কিছুটা নিয়ন্ত্রণের ফলে রিজার্ভে ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একটি দেশের আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণভাবে তিন মাসের আমদানি ব্যয় নির্বাহের সমপরিমাণ রিজার্ভকে ন্যূনতম নিরাপদ স্তর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রিজার্ভের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে বৈদেশিক লেনদেন সক্ষমতা এবং আর্থিক খাতে আস্থার পরিবেশ জোরদার হয়।

তবে গ্রস ও নিট রিজার্ভের মধ্যে পার্থক্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। কারণ গ্রস রিজার্ভের অঙ্ক বড় হলেও তার একটি অংশ বিভিন্ন দায়-দেনার বিপরীতে সংরক্ষিত থাকে, যা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারযোগ্য নয়। এ কারণে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিপিএম-৬ ভিত্তিক নিট রিজার্ভের অবস্থানকে অধিকতর তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সাম্প্রতিক বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক খাতের ওপর চাপ কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে রিজার্ভের স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, প্রবাসী আয় আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে প্রবাহ বৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য রক্ষা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলে অর্থনীতিবিদরা মত দিয়েছেন।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ