সারাদেশ ডেস্ক
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতি থাকলেও সরকার নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। রমজান মাসে ইফতার, তারাবিহ ও সেহরির সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং আসন্ন বোরো সেচ মৌসুমে কৃষকদের প্রয়োজন অগ্রাধিকারভিত্তিতে পূরণে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে যশোর সার্কিট হাউজে জেলার বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতে বিদ্যমান ঘাটতি ও ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে জনদুর্ভোগ কমাতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সীমিত উৎপাদন সক্ষমতার মধ্যে দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, রমজান মাসে বিদ্যুতের চাহিদার ধরন ভিন্ন থাকে। বিশেষ করে ইফতার, তারাবিহ ও সেহরির সময় আবাসিক এলাকায় চাহিদা বেড়ে যায়। এ সময়গুলোতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে লোড ম্যানেজমেন্ট পরিকল্পনা পুনর্বিন্যাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাগুলোকে সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
আসন্ন বোরো মৌসুম প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রমজানের পরপরই সেচের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। কৃষি উৎপাদন ধরে রাখতে সেচের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অপরিহার্য। প্রয়োজন হলে অন্য খাতে রেশনিং করে হলেও কৃষকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সেচ মৌসুমের জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ পর্যায়ে অগ্রাধিকার।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জেলার বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা, অবকাঠামোগত ঘাটতি ও চাহিদা বৃদ্ধিজনিত চাপের বিষয় তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী এসব সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দেন এবং মাঠপর্যায়ে সেবা প্রদানে কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতের সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।
বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও জ্বালানি সরবরাহ, আমদানি ব্যয়, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং মৌসুমি চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সময়ভেদে সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লোড ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় প্রয়োজন হয়। এ প্রেক্ষাপটে রমজান ও বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে আগাম প্রস্তুতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে শুক্রবার বেলা ১১টায় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা যশোরে পৌঁছান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। যশোর বিমানবন্দরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে অভ্যর্থনা জানান। পরবর্তীতে সার্কিট হাউজে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
বিকেলে সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় পল্লী বিদ্যুৎ ও ওজোপাডিকোর বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিদ্যুৎ সরবরাহের বর্তমান অবস্থা, চাহিদা ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং গ্রাহকসেবা জোরদারের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, রমজান ও সেচ মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধি সামাল দিতে কার্যকর লোড ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং বিতরণব্যবস্থার সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের ঘোষিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে আবাসিক ও কৃষি—উভয় খাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


