শ্রীলংকাকে হারিয়ে ‘বি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন জিম্বাবুয়ে, সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকা-ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি

শ্রীলংকাকে হারিয়ে ‘বি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন জিম্বাবুয়ে, সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকা-ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি

 

খেলাধূলা ডেস্ক

ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও অধিনায়ক সিকান্দার রাজার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের ‘বি’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জিম্বাবুয়ে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক শ্রীলংকাকে ৬ উইকেটে পরাজিত করে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থেকে সুপার এইট নিশ্চিত করেছে দলটি।

কলম্বোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলংকা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৮ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। জবাবে ১৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ে ১৯.৪ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয়।

এই জয়ের ফলে জিম্বাবুয়ে চার ম্যাচে তিন জয় ও একটি পরিত্যক্ত ম্যাচ থেকে মোট ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়। সমানসংখ্যক ম্যাচে তিন জয় ও এক পরাজয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে রানার্স-আপ হয়েছে শ্রীলংকা। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও জয় পাওয়ায় টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে জিম্বাবুয়ে।

ব্যাট করতে নেমে শ্রীলংকা শুরু থেকেই দ্রুত রান তুলতে থাকে। প্রথম পাঁচ ওভারে দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫৪ রান। ওপেনার কুশল পেরেরা ১৪ বলে ২২ রান করে আউট হন। এরপর কুশল মেন্ডিসকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন পাথুম নিশাঙ্কা। দ্বিতীয় উইকেটে ৪৬ রানের জুটি গড়ে দলকে শতকের ঘরে পৌঁছে দেন তারা।

মেন্ডিস ১৪ রান করে বিদায় নিলেও ইনিংসের হাল ধরেন নিশাঙ্কা। ৮টি চারসহ ৪১ বলে ৬২ রান করেন তিনি, যা ছিল তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১৯তম অর্ধশতক। দলীয় ১০৮ রানে নিশাঙ্কা আউট হলে মাঝের সারিতে দ্রুত রান তোলার দায়িত্ব নেন পাভান রত্নানায়েকে। তিনটি চার ও দুটি ছক্কায় ২৫ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ফলে নির্ধারিত ওভারে প্রতিযোগিতামূলক সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৭৮।

জিম্বাবুয়ের পক্ষে ব্লেসিং মুজারাবানি, ব্র্যাড ইভান্স ও গ্রায়াম ক্রেমার দুটি করে উইকেট নেন। মাঝের ওভারে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নেওয়ায় শ্রীলংকা বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

লক্ষ্য তাড়ায় জিম্বাবুয়ে শুরুতেই স্থিতিশীল ব্যাটিং উপহার দেয়। দুই ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও তাদিওয়ানশে মারুমানি প্রথম উইকেটে ৫১ বলে ৬৯ রান যোগ করেন। মারুমানি ২৬ বলে ৩৪ রান করে আউট হন। তিন নম্বরে নেমে রায়ান বার্ল ১২ বলে ২৩ রানের দ্রুত ইনিংস খেলেন, যা রানরেট সচল রাখতে সহায়তা করে।

দলীয় ৯৮ রানে বার্ল ফিরে গেলে ইনিংসের দায়িত্ব নেন বেনেট ও অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। তারা চতুর্থ উইকেটে ৪০ বলে ৬৯ রানের জুটি গড়ে জয়ের ভিত মজবুত করেন। রাজা আউট হওয়ার আগে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এবং ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন।

বেনেট ৪৮ বলে ৬৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। ইনিংসে ছিল চারটি চার। শেষদিকে টনি মুনিয়োঙ্গা ৩ বলে ৮ রান করে জয় নিশ্চিত করেন। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে শ্রীলংকার বিপক্ষে এটি জিম্বাবুয়ের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। এর আগে ২০২৪ সালে ১৭৪ রান তাড়া করে জয় পেয়েছিল দলটি।

গ্রুপ পর্বে ধারাবাহিক সাফল্য জিম্বাবুয়ের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। সুপার এইটে গ্রুপ-১এ দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলবে তারা। ২৩ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে সুপার এইট পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ে।

বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সুপার এইটে ওঠা জিম্বাবুয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বজায় রাখতে পারলে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ