শিক্ষা ডেস্ক
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফরম পূরণ আগামী ১ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ৯ মার্চ পর্যন্ত চলবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো বিলম্ব ফি ছাড়াই শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ফরম পূরণ করতে পারবে বলে জানিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। বৃহস্পতিবার বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিলম্ব ফি ছাড়া অনলাইনে ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১০ মার্চ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফরম পূরণে ব্যর্থ হলে শিক্ষার্থীরা ১০০ টাকা বিলম্ব ফি-সহ ১১ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত ফরম পূরণের সুযোগ পাবে। বিলম্ব ফি-সহ টাকা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৮ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বোর্ড নির্ধারিত ফি কাঠামো অনুযায়ী, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের (চতুর্থ বিষয়সহ) সর্বমোট ২ হাজার ৯৯৫ টাকা এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ২ হাজার ৪৩৫ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে কোনো পরীক্ষার্থীর চতুর্থ বিষয় বা নৈর্বাচনিক বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা থাকলে বিষয়প্রতি অতিরিক্ত ১৪০ টাকা দিতে হবে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ২৪ মাসের টিউশন ফি আদায় করতে পারবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি বোর্ডের ওয়েবসাইটে সম্ভাব্য পরীক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ওই তালিকা থেকে সঠিক পরীক্ষার্থী নির্বাচন ও তথ্য যাচাই করে ফরম পূরণ নিশ্চিত করতে হবে। এতে ভুল তথ্য বা অনিয়ম এড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ–৫ এর কম প্রাপ্ত নিয়মিত শিক্ষার্থীরা মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। তবে তাদের সব বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এ বিধান শিক্ষার্থীদের ফল উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য ২০২৬ সালের পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচি এবং অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের জন্য ২০২৫ সালের পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচি অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য পাঠ্যসূচি নির্ধারণে বোর্ড স্পষ্টতা প্রদান করেছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মডেল টেস্ট আয়োজন করতে পারবে। তবে তা কোনো শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক করা যাবে না এবং এ উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত ফি আদায় করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বোর্ডের এই নির্দেশনা শিক্ষার্থীদের ওপর আর্থিক চাপ কমানো এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক প্রস্তুতির সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নির্বাচনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের শর্ত শিথিল করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ প্রতিফলিত হয়েছে বলে শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার শুরুর তারিখ পরবর্তীতে পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। ফরম পূরণ সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই ও ফি জমা সম্পন্ন করার জন্য শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।


