ইতিহাসে প্রথমবার শহীদ মিনারে শহীদদের মাগফিরাত কামনায় প্রধানমন্ত্রীর দোয়া

ইতিহাসে প্রথমবার শহীদ মিনারে শহীদদের মাগফিরাত কামনায় প্রধানমন্ত্রীর দোয়া

জাতীয় ডেস্ক

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি শহীদ মিনার প্রাঙ্গণেই অবস্থান করে ভাষা শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন, যা প্রচলিত প্রথার বাইরে একটি ভিন্নধর্মী আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

রাত ১২টা ৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের দীর্ঘদিনের একটি রাষ্ট্রীয় প্রথা রয়েছে। সাধারণত রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণের পরপরই শহীদ মিনার ত্যাগ করেন। তবে এবার প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সেখানে অবস্থান করে দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।

দোয়া পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের জ্যেষ্ঠ ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা নাজির মাহমুদ। মোনাজাতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

দোয়া মাহফিলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্যও দোয়া করা হয়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সফলতা কামনা করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

দোয়া অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রিসভা, দল এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকেও পৃথক পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, দলীয় নেতাকর্মী এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবাহী একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৫২ সালের এই দিনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর গুলিতে কয়েকজন তরুণ শহীদ হন। তাঁদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায় এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পথ প্রশস্ত হয়। ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (ইউনেসকো) ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিবছর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে একুশের প্রথম প্রহরে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলকে সংশ্লিষ্টরা একুশের কর্মসূচিতে একটি নতুন সংযোজন হিসেবে দেখছেন। রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি প্রার্থনার মাধ্যমে ভাষা শহীদদের স্মরণ এবং জাতীয় ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ের শহীদদের জন্য সম্মিলিতভাবে দোয়া আয়োজনের বিষয়টি ভবিষ্যতে কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ