বাংলাদেশ ডেস্ক
সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির অংশ হিসেবে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। শুক্রবার (তারিখ উল্লেখ নেই) বিকেল তিনটার দিকে লালমনিরহাট জেলার গোকুণ্ডা বাজারে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় ও শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে ১৮০ দিনের একটি বিশেষ কর্মপ্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই প্যাকেজ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনায় ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভায় চার দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি জানান, অগ্রাধিকারভিত্তিতে ঈদের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করার লক্ষ্যে কাজ চলছে এবং প্রকৃত হতদরিদ্রদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপযুক্ত সকল পরিবারকে এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের আটটি উপজেলায় কার্যক্রমটি শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উপজেলায় পরীক্ষামূলক বাস্তবায়নের মাধ্যমে কার্ড ব্যবস্থাপনার কাঠামো, উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। সফলতা ও সীমাবদ্ধতা মূল্যায়নের পর তা পর্যায়ক্রমে সারাদেশে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের লক্ষ্য সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, নিম্নআয়ের ও হতদরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তা প্রাপ্তির একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতি গড়ে তোলাই এর উদ্দেশ্য। কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা বা অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে।
সভায় মন্ত্রী দেশের জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাল খনন ও সংস্কার কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে। আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে খাল পুনঃখনন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হলে বন্যা ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চলতি বছরে ৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। ইফতার ও সেহরির সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে একটি স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন রয়েছে এবং বিষয়টি তাদের এখতিয়ারভুক্ত। তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট সংস্থাই পরিচালনা করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
লালমনিরহাট জেলা সফর প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি জেলার সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ২২ ফেব্রুয়ারি জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এসব সভায় জেলার বিভিন্ন সমস্যা, উন্নয়ন সম্ভাবনা এবং চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হবে।


