চট্টগ্রামের রাউজানে শ্রমিক দলের নেতাকে গুলি করে আহত করা হয়েছে

চট্টগ্রামের রাউজানে শ্রমিক দলের নেতাকে গুলি করে আহত করা হয়েছে

 

চট্টগ্রাম — জেলা প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার চৌধুরী মার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে উপজেলা শ্রমিক দলের এক নেতা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। ঘটনা ঘটেছে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে। আহত নেতার নাম মেহেদী হাসান (৩২)। তিনি উপজেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাঁর বাড়ি একই ওয়ার্ডের কাজীপাড়া এলাকায়।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, মেহেদী হাসান স্থানীয় শাহ আউলিয়া জামে মসজিদে নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় মুখোশধারী একদল দুর্বৃত্ত তাঁর দিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল আলম জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীরা মোট ছয়টি গুলি ছুড়েছিল।其中 একটি গুলি মেহেদীর বুকের ডান পাশে এবং আরেকটি পায়ে লেগেছে। আহত মেহেদীকে দ্রুত চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসা চলছে।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম জানান, মেহেদী হাসানকে গুলি করার ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে। এখন পর্যন্ত হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিরোধ থেকে এ ধরনের সহিংসতা ঘটতে পারে। তবে রাউজান থানা ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এছাড়া, নিরাপত্তা বাড়াতে স্থানীয় পুলিশের টহল ও নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।

উপজেলা শ্রমিক দল ও স্থানীয় সমাজকল্যাণ সংগঠনগুলো সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকতে এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতি সম্পর্কে পুলিশকে অবহিত করতে আহ্বান জানিয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মেহেদীর আহত অংশগুলোর অবস্থা স্থিতিশীল হলেও সম্পূর্ণ সুস্থ হতে কিছু সময় লাগবে।

চট্টগ্রাম জেলার রাউজান এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও দলীয় সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যক্রম জোরদার করেছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, হামলার পেছনে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে। এ ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে রাউজান থানা ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত পরিচালনা করছে।

এই হামলার কারণে রাউজান পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জনগণকে নিরাপদ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ