রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গেজেট প্রকাশ করেছে, যার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে জামায়াতে ইসলামী দল সংসদে ১২টি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে। দলের সূত্রে জানা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে এই সংরক্ষিত আসনের জন্য প্রার্থীদের চূড়ান্ত করা হবে।
জামায়াতে ইসলামী সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য পারদর্শী ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। দলীয় সূত্র জানায়, এবার সংরক্ষিত আসনগুলোয় শুধুমাত্র দলীয় পদধারীদের নয়, অন্যান্য দক্ষ নারীদেরও অন্তর্ভুক্ত করার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংরক্ষিত ১২টি আসনের জন্য এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তবে দলীয় নেতাদের মধ্যে কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সহধর্মিণী ডা. আমেনা বেগম, নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের স্ত্রী ও মহিলা বিভাগের নেত্রী হাবিবা রহমান সুইট, মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা, নেত্রী ফাতেমা আক্তার হ্যাপি, মহানগর দক্ষিণের নেতা আয়েশা খানম এবং নারী নেত্রী সাবেকুন্নাহার। এছাড়া ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক মারদিয়া মমতাজকেও এই আসনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে ১২টি আসন পেতে যাচ্ছে। এই আসনগুলোয় প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে দল সুপরিকল্পিত অবস্থান নিয়েছে। বিশেষভাবে সেই এলাকাগুলো থেকে যোগ্য নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হবে, যেখানে দলের পুরুষ প্রার্থীরা নির্বাচিত হননি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র দলীয় পরিচয় নয়, প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা, জ্ঞান, প্রজ্ঞা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং জাতীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু উপস্থাপনের সক্ষমতাও বিবেচনায় আনা হচ্ছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট এলাকায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং সাংগঠনিক অবদানও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।’
প্রার্থী চূড়ান্তকরণের বিষয়ে নেসা সিদ্দীকা নিজেকে পুরোপুরি উপযুক্ত মনে না করলেও সংগঠন যদি দায়িত্ব দেয়, তা পালনে তিনি প্রস্তুত রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু সংসদে আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চাই না, বরং নারীর সামাজিক মর্যাদা, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সব ধরনের অবিচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করব। সংসদে ও বাইরে সমানভাবে কাজ করে নারীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে অবদান রাখব। সামনের দিনগুলোয় জামায়াতের মহিলারা আরও সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করবেন।’
জামায়াতের একাধিক নেতার সঙ্গে আলোচনায় জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। তবে মহিলা বিভাগের পক্ষ থেকে একটি খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তা আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে। আশা করা হচ্ছে, জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে এ বিষয়টি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হবে।


