বিএনপি আসন্ন জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি শুরু করছে

বিএনপি আসন্ন জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি শুরু করছে

 

রাজনীতি ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল রাখতে বিএনপি এবার দলীয় পুনর্গঠন ও জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। দল সূত্রে জানা গেছে, রোজা শেষে ঈদের পর জাতীয় কাউন্সিলের জন্য কার্যক্রম শুরু হবে। দেশি-বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবীন ও প্রবীণ নেতাদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হবে।

বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর এই কাউন্সিল আয়োজনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং দলীয় হাইকমান্ডের তাগিদকে উল্লেখ করা হচ্ছে। দল সূত্রে জানানো হয়, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর ও জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর অসুস্থ থাকার কারণে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিদেশে অবস্থানের কারণে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত দলের নেতাকর্মীরা মামলা ও হয়রানির শিকার হওয়ায় কাউন্সিল স্থগিত থাকে। বর্তমান পরিস্থিতি অনুকূলে আসায় নতুন উদ্যমে কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় কাউন্সিলের আগে সারাদেশে দলের সকল স্তরের কমিটিগুলো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলের ৮২টি সাংগঠনিক জেলা এবং তৃণমূল পর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠনের কাজের তদারকি করবেন সিনিয়র নেতা ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই পুনর্গঠন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে। ইতিমধ্যেই বছরখানেক আগে সিনিয়র নেতাদের নিয়ে ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের জন্য পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যা পুনর্গঠন কাজে অগ্রগতি অর্জন করলেও সব ইউনিট সম্পূর্ণভাবে পুনর্গঠিত হয়নি।

দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের খবর জানার পর ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রতিটি সাংগঠনিক ইউনিট থেকে কাউন্সিলর নির্বাচনের জন্য নেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটির পুরনো ৫৯২ সদস্যের কমিটির শূন্য পদ পূরণ হবে এবং অনেক নিষ্ক্রিয় সদস্যের পরিবর্তে সক্রিয় নেতারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে স্থান পাবেন।

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর অন্তর জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক। তবে অতীতের প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে এটি প্রায় ১০ বছর বন্ধ ছিল। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এই কার্যক্রম বাধ্যতামূলক হলেও বিএনপি বিভিন্ন কারণে তা স্থগিত রাখে।

ঈদের পর দলের সিনিয়র ও মধ্যম সারির নেতাদের নিয়ে একটি প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি সারাদেশের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাউন্সিলের প্রস্তুতি এগিয়ে নেবে। এবারের জাতীয় কাউন্সিলে চেয়ারম্যান তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগের ছয়টি কাউন্সিলের তুলনায় এবারের কাউন্সিল আরও জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজন করা হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কার্যক্রমে দলের শক্তি বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া নতুন কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘদিন কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান না পাওয়া ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের সুযোগ নিশ্চিত হবে।

সর্বশেষ, নির্বাচনে বিজয়ের পর সরকার গঠনের পরও দলের কার্যক্রমে মন্থরতা এড়াতে বিএনপি হাইকমান্ড তৎপর রয়েছে। জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে দল পুনর্গঠন সম্পন্ন হলে নবীন ও প্রবীণ নেতাদের সমন্বয়ে নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন হবে এবং দলের কার্যক্রম নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাবে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ