বাংলাদেশ ডেস্ক
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম শনিবার বলেছেন, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে সক্রিয় দস্যু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং অচিরেই বিশেষ অভিযান শুরু করা হবে। তিনি এ তথ্য বাগেরহাটে ঐতিহাসিক খান জাহান আলী মাজার জিয়ারতের পরে সাংবাদিকদের জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে দস্যুদের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে এবং চিহ্নিত দস্যুদের ওপর বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে। সমন্বিত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে শিগগিরই তাদের গ্রেপ্তার ও দমন করা হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সুন্দরবনে আর কোনো ধরনের দস্যুতা বরদাশত করা হবে না।
শেখ ফরিদুল ইসলাম আরও জানান, সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার, বনজ সম্পদ লুটপাট, জেলে ও বনজীবীদের অপহরণ এবং চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। বনদস্যু দমন এবং নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড এবং বন বিভাগের টহল বৃদ্ধি করা হবে। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য সংগ্রহ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হবে।
প্রতিমন্ত্রী বাগেরহাটে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার প্রেক্ষাপটেও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বা তারেক রহমান এসব সহিংসতা বা চাঁদাবাজির কোনো দায়ভার গ্রহণ করবে না। তিনি জানিয়েছেন, বিএনপি একটি গণমানুষের দল এবং তারেক রহমান শুধুমাত্র বিএনপির নেতা নয়, সারা দেশের গণমানুষের প্রতিনিধিও। সুতরাং যে কোনো অপরাধের দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হবে।
এ সময় বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোজাফ্ফর রহমান আলম, বিএনপি নেতা শাহেদ আলী রবিসহ স্থানীয় নেতাকর্মী এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সুন্দরবন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যানগ্রোভ বন এবং জাতিসংঘের স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান হিসেবে সংরক্ষিত। বনজ সম্পদের অবৈধ শিকার, দস্যুতা এবং চাঁদাবাজি দীর্ঘদিন ধরে বন সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ। বনদস্যু দমন অভিযানের ফলে স্থানীয় জেলে, মৌয়াল এবং বাওয়ালীদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে এবং বনজ সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুন্দরবনে সমন্বিত অভিযান চালালে বন ও জলবায়ু সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব। তবে এই ধরনের অভিযানের সফলতার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম, স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


