জাতীয় ডেস্ক
জয়পুরহাটে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছে। একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দানে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হয়।
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক মো. আল-মামুন মিয়া ও জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর জেলা পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদাসহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা, জেলা জামায়াতের আমির, জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান সাঈদ এবং বিএনপি নেতারা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অনুষ্ঠান চলাকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “পৃথিবীর কোনো দেশেই ভাষার জন্য জীবন দেওয়ার এমন নজির নেই। ইউনেস্কো এটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। শহীদ বরকত, রফিক, জব্বার ও সালামের রক্তে ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল। মূলত একটি বৈষম্যহীন সমাজ, সাম্য, ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার নিশ্চিত করতেই এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল।” তিনি ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, ১৯৭৫ সালের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান এবং দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সুষম সমাজব্যবস্থা, মানুষের কথা বলার অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের আন্দোলনের ধারাবাহিকতাতেই আজ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সরকার গঠন করছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী এই দিবস উপলক্ষ্যে একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজব্যবস্থা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন।
মো. আব্দুল বারী সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছেন যে সরকারি কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের একমাত্র ভিত্তি হবে সততা, দক্ষতা ও মেধা। তিনি বলেন, এর কোনো বিকল্প নেই এবং বিকল্প থাকার সুযোগও নেই। প্রতিমন্ত্রী আরও যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত হলে ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং জুলাই-আগস্টের শহীদদের ত্যাগ সার্থক হবে।
অনুষ্ঠানটিতে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে অংশগ্রহণ করেন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ভাষা শহীদদের স্মরণ এবং মাতৃভাষার মর্যাদা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান জানানো হয়।


