রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঢাকা-১৩ আসনে নির্বাচনের দিন কেন্দ্র দখল এবং বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা তদন্তের জন্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
রোববার সকালে রাজধানীর জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে নির্বাচনের দিন সন্ত্রাসী হামলায় আহতদের চিকিৎসা পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ববি হাজ্জাজ জানান, অভিযুক্ত মামুনুল হকের নির্দেশে তার সমর্থকরা ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে বিএনপির সমর্থকরা বাধা প্রদান করেন। এ সময় হামলায় একাধিক কেন্দ্রে প্রায় শতাধিক বিএনপিকর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে হায়দার আলীর অবস্থা গুরুতর; তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, সরাসরি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে কেন্দ্র দখলের হুকুম দেওয়ায় মামুনুল হককে প্রধান আসামি করে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ছাড়া মোহাম্মদপুর এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাস দমনে বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে বলে জানান ববি হাজ্জাজ। এর মধ্যে রয়েছে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পুলিশ বক্স স্থাপন এবং টহল টিম বৃদ্ধি। তিনি উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য স্থানীয় জনগণ ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষা করা।
নির্বাচনের দিন কেন্দ্র দখল এবং সহিংসতার ঘটনা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনা ভোটপ্রক্রিয়ার প্রতি জনমনে আস্থা ক্ষুণ্ণ করতে পারে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে যাতে আগামী নির্বাচনগুলি শান্তিপূর্ণ এবং স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়।
মোহাম্মদপুরে নিরাপত্তা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ভোটকেন্দ্রগুলিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। এ পদক্ষেপ ভোটারদের নিরাপত্তা বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজনৈতিক সহিংসতা কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামলার ঘটনায় আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে জরুরি ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আহতদের পরিবারের দাবি, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
রাজধানীর এই ঘটনা দেশের নির্বাচনী পরিবেশে উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব আবারও浮িয়ে এনেছে। সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আইনি পদক্ষেপ রাজনৈতিক শান্তি বজায় রাখতে এবং ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে।


