জাতীয় ডেস্ক
ধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর তৃতীয় কর্মদিবসে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো অফিস করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ ধর্মগুরুদের মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতা প্রদানের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সরকারের লক্ষ্য, আসন্ন ঈদের আগে পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম শুরু করা।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন সংবাদ সম্মেলনে জানান, আজ প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সাধারণ নাগরিকের মতোই ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে যানজটে অপেক্ষা করে কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন এবং অফিসে ঢোকার আগে একটি বৃক্ষরোপণ করেন। কার্যালয়ে প্রবেশের পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, বিশেষ করে যারা তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে একসময় কাজ করেছেন তাদের নাম ধরে ডেকে কথা বলেছেন।
ধর্মীয় নেতাদের সম্মানীর বিষয়ে ড. মাহদী আমিন বলেন, “নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মগুরুদের মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতা প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।” তিনি আরও জানান, একটি টেকনিক্যাল ও আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আসন্ন ঈদের আগে বিভিন্ন স্থানে পর্যায়ক্রমে ধর্মগুরুদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হবে। কত টাকা ভাতা দেওয়া হবে তা নির্ধারণের জন্য কমিটি কাজ করছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও টেকনিক্যাল টিমের পরামর্শের ভিত্তিতে পরিমাণ নির্ধারিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বৈঠকে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন কর্মসংস্থান ও শিক্ষা সংস্কার নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ড. মাহদী আমিন বলেন, “সারা দেশে মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সরকারি-বেসরকারি চাকরি এবং উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়গুলো বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়েও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবরা মতামত দিয়েছেন।”
বৈঠকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পকারখানার নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংস্কার বা ডিরেগুলেশন নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যা দ্রুত সময়ের মধ্যে বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সহায়ক হবে। ড. মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, জনগণের প্রতি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তার নেতৃত্বে সরকার প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু করবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী প্রদান ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো নীতিমালা বাস্তবায়ন সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিকে মজবুত করবে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি শিক্ষা ও উদ্যোক্তা তৈরিতে পদক্ষেপ নিলে দেশের যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে পারে।


