ফাইনালে ভারতের কাছে ৪৬ রানে হারলো বাংলাদেশ ‘এ’ নারী দল

ফাইনালে ভারতের কাছে ৪৬ রানে হারলো বাংলাদেশ ‘এ’ নারী দল

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ব্যাংককে অনুষ্ঠিত নারী টি–টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভারত ‘এ’ নারী দলের কাছে ৪৬ রানে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ ‘এ’ নারী দল। রবিবার ব্যাংককের টার্ডথাই ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৩৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে বাংলাদেশ ১৯.১ ওভারে ৮৮ রানে অলআউট হয়।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত ‘এ’ দল। উদ্বোধনী জুটিতে ৩০ রান তুললেও পরবর্তী সময়ে দ্রুত চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে তারা। বাংলাদেশের অধিনায়ক ফাহিমা খাতুনের ঘূর্ণি আক্রমণে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ কিছু সময়ের জন্য বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এই পর্যায়ে ফাহিমা দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন এবং ম্যাচে তিনি সর্বোচ্চ চারটি উইকেট শিকার করেন। চার ওভারে ২৫ রান খরচ করে চার উইকেট নেওয়া ছিল তার বোলিং বিশ্লেষণ।

চাপের মুখে পঞ্চম উইকেটে তেজাল হাসাবনিস ও অধিনায়ক রাধা যাদবের ৬৯ রানের জুটি ভারতকে স্থিতিশীলতা এনে দেয়। রাধা যাদব ৩০ বলে ৩৬ রান করে আউট হন। অপর প্রান্তে হাসাবনিস শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন। তিনি ৩৪ বলে ৫১ রান করেন, যার মধ্যে ছিল তিনটি চার ও দুটি ছক্কা। তার ইনিংসের ওপর ভর করে ভারত নির্ধারিত ওভার শেষে ১৩৪ রানের প্রতিযোগিতামূলক সংগ্রহ দাঁড় করায়। বাংলাদেশের পক্ষে ফারজানা ইয়াসমিন ও ফাতেমা জাহান একটি করে উইকেট নেন।

১৩৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ শুরুতে নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং উপহার দেয়। দলীয় ৩৭ রানে প্রথম উইকেট হারালেও তখন পর্যন্ত রান তোলার গতি সন্তোষজনক ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে ১১ রানের ব্যবধানে তিনটি উইকেট হারিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করে দলটি। দলীয় ৪৮ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর ব্যাটিং লাইনআপ আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনের কারণে শেষ পর্যন্ত ১৯.১ ওভারে ৮৮ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। শেষ পাঁচ উইকেট পড়ে মাত্র ১৫ রানের ব্যবধানে, যা ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশের পক্ষে ওপেনার শামিমা সুলতানা ২০ রান করেন। শারমিন সুলতানা করেন ১৮ রান। অধিনায়ক ফাহিমা খাতুন ব্যাট হাতে ১৪ এবং সাদিয়া আক্তার ১০ রান যোগ করেন। বাকিরা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি। ভারতের পক্ষে প্রেমা রাওয়াত তিনটি উইকেট শিকার করেন এবং মধ্য ও শেষভাগে বাংলাদেশের রান তোলার গতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন তেজাল হাসাবনিস।

টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ ‘এ’ দল ধারাবাহিক সাফল্য দেখিয়েছিল। তিন ম্যাচের সবকটিতে জয় পেয়ে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান অর্জন করে তারা। গ্রুপ পর্বে শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে জয় পায় বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে ৫৪ রানে পরাজিত করে ফাইনালে ওঠে দলটি।

ফাইনালে পরাজয়ের ফলে শিরোপা হাতছাড়া হলেও পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে বোলিং বিভাগে ফাহিমা খাতুনের ধারাবাহিকতা এবং গ্রুপ ও সেমিফাইনালে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নারী ক্রিকেটের প্রতিযোগিতামূলক মানোন্নয়নে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে ফাইনালে ব্যাটিং ব্যর্থতা দলটির জন্য পর্যালোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ