বরিশালে খাল পুনঃখনন ও বনায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন

বরিশালে খাল পুনঃখনন ও বনায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন

 

বাংলাদেশ ডেস্ক

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সরকার সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছে, যা শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরিশালে খাল পুনঃখনন ও গাছ রোপণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মন্ত্রী আরও জানান, ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ আরও ত্বরান্বিত করা হবে।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার শরিকল ইউনিয়নে খাল খনন ও বনায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৎকালীন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছিল। পরবর্তীতে খালগুলো মরে যাওয়ায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে খাল খননের মাধ্যমে জোয়ার-ভাটার পানি সরাসরি কৃষকের জমিতে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন উল্লেখ করেন, সরকার কোনো দলীয় রীতিতে গঠন করা হবে না; এটি হবে জনগণের সরকার। নির্বাচিত হলে সরকারে থাকবেন, না হলে সরকারে থাকবেন না। তবে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলার সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কাপলাতলি খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, খাল পুনঃখননের ফলে জল সেচ ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং বর্ষা ও শীত মৌসুমে তাদের জমিতে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

খাল খনন ও বনায়ন কর্মসূচি দেশের জলবায়ু ও কৃষি খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলার আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বরিশাল অঞ্চলের কৃষি জমি জোয়ার-ভাটার পানি ব্যবস্থার উন্নতির মাধ্যমে সেচ ও চাষাবাদের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় কৃষক ও ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতা নেওয়া হবে।

এছাড়া, খাল খনন ও গাছ রোপণ কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ বজায় রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে এই উদ্যোগ দেশের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নেও সহায়ক হবে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, খাল খনন প্রকল্পটি দেশের সামগ্রিক সেচ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে খালের তলদেশ ও পাড়ে নিয়মিত গাছ রোপণ এবং পরিচর্যা করা হবে, যা জলসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ