রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি ‘এক পরিবারে এক প্রার্থী’ নীতি অনুসরণ করার পরিকল্পনা করেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই নীতি কার্যকর হলে সংসদে নতুন মুখদের প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই পরিবারের মধ্যে যারা ইতোমধ্যেই সংসদে বা মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন না দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনে এককভাবে জয়লাভের পর বিএনপি সরকার গঠন করেছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। নতুন মন্ত্রিসভার গঠন শেষে এখন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি চলছে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, শতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছেন এবং দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকা নেত্রীদের পাশাপাশি তরুণ ও নতুন মুখরাও এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন।
সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে ৫০টি নারী আসন সংরক্ষিত রয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, যে দল সাধারণ আসনে যতটি আসন অর্জন করে, সেই অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২১২টি আসনে জয়লাভ করেছে। এর ফলে ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে দলের অংশ হবে ৩৫টি। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হওয়ায়, তাদের ফের বিএনপিতে ফিরিয়ে নিলে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৩৭টির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ সম্প্রতি জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রোজার মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।
দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় এক পরিবার এক প্রার্থী নীতি মেনে চলা হবে। তবে বিগত দিনের আন্দোলন ও ত্যাগের কারণে দলীয় নেতৃত্ব কিছু নেত্রীকে শেষ পর্যায়ে মনোনয়ন দিতে পারেন। পাশাপাশি, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নারীনেত্রীদেরও উচ্চকক্ষে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে বড় তালিকা প্রস্তুত করা হবে এবং পরে সংক্ষিপ্ত তালিকার মাধ্যমে সংসদীয় বোর্ডের অনুমোদনের পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা নির্ধারণ করা হবে। প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সুপারিশ নয়, মাঠ পর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা এবং অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়া হবে।
এবারের সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, সাবেক এমপি শাম্মী আকতার, নিলোফার চৌধুরী মনি, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আকতার রানু, বিলকিস ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমিন, ব্যারিস্টার হাসনা জসীম উদ্দীন মওদুদ, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, বীথিকা বিনতে হুসাইন, সামিরা তানজিনা চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, নাদিয়া পাঠান পাপন, নাসিমা আক্তার কেয়া এবং ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।
সাবেক ছাত্রদল নেত্রী শওকত আরা ঊর্মি, শাহিনুর সাগর, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জেসমিনা খানম, ফটিকছড়ির গুম হওয়া বিএনপি নেতা শহিদুল আলম সিরাজের সহধর্মিণী সুলতানা পারভীন, ময়মনসিংহ জেলা মহিলা দলের সহসভাপতি ফাহসিনা হক লিরা এবং পদপ্রত্যাশী অন্যান্য নেত্রীদের নামও আলোচনায় রয়েছে।
বরিশাল-৩ আসনের সাবেক এমপি মোশাররফ হোসেন মঙ্গুরের মেয়ে অধ্যাপক ডা. জাহানারা লাইজু, পটুয়াখালী জেলা মহিলা দলের সহসভাপতি আনোয়ারা খান এবং পিরোজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এলিজা জামানও সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের জন্য প্রতিযোগিতা করছেন।
দলীয় নেত্রী ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বলেছেন, ‘দলকে রক্ষা ও আন্দোলনে সক্রিয় থাকার জন্য আমাদের পরিবার জীবন-ঝুঁকি নিয়েছে। দলের নেতা যখন কারাগারে ছিলেন, আমরা রাজপথে ছিলাম। এখন দলের সুদিনে আমাদের ত্যাগ মূল্যায়নের আশা করছি।’
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের চূড়ান্ত তালিকা প্রায়শই দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে, যেখানে নেতৃত্বের মূল্যায়ন, ক্ষেত্রভিত্তিক গ্রহণযোগ্যতা এবং অতীত রাজনৈতিক অবদান বিবেচনা করা হবে।


