খেলাধূলা ডেস্ক
আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) জয়ের মাধ্যমে অভিযান শুরু করতে চান উত্তরাঞ্চল দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে পূর্বাঞ্চলের বিপক্ষে মাঠে নামবে উত্তরাঞ্চল। আসন্ন পাকিস্তান সফরের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজকে সামনে রেখে এই প্রতিযোগিতাকে প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় পর্যায়ের প্রথম শ্রেণির এই টুর্নামেন্ট দীর্ঘদিন ধরেই দেশীয় ক্রিকেটারদের জন্য নিজেদের সামর্থ্য যাচাই ও ধারাবাহিকতা ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সিরিজের আগে খেলোয়াড়দের ম্যাচ অনুশীলন ও মানসিক প্রস্তুতি বাড়াতে বিসিএল কার্যকর ভূমিকা রাখে। এ প্রেক্ষাপটে এবারের আসরটি জাতীয় দলের সম্ভাব্য ক্রিকেটারদের জন্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বগুড়ায় সংবাদ সম্মেলনে উত্তরাঞ্চলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের উইকেট সাধারণত ব্যাটার ও বোলার উভয়ের জন্য সহায়ক হয়ে থাকে। এবারের উইকেটও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেটের উপযোগী বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এমন উইকেটে দলগত পারফরম্যান্সই ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
শান্ত জানান, উদ্বোধনী ম্যাচে জয় পেতে হলে দলকে সামগ্রিকভাবে ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনার চেয়ে মাঠের পারফরম্যান্সই গুরুত্বপূর্ণ। যে দল পরিস্থিতি অনুযায়ী ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারবে এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে, তারাই সাফল্য পাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, উত্তরাঞ্চল দল ভারসাম্যপূর্ণ এবং প্রত্যেকে নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারলে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন সম্ভব।
উত্তরাঞ্চলের কোচিং স্টাফেও রয়েছে অভিজ্ঞতা। এবারের আসরে দলটির প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার হান্নান সরকার। অতীতে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে শান্ত ও হান্নান একসঙ্গে কাজ করেছেন। এই অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক। তার মতে, কোচ ও অধিনায়কের মধ্যে বোঝাপড়া ভালো হলে দল পরিচালনা ও কৌশল নির্ধারণে সুবিধা হয়। তবে প্রতিটি টুর্নামেন্টই নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ চারটি আঞ্চলিক দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়—উত্তরাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চল। দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটারদের অনেকেই এই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে থাকেন। ফলে প্রতিটি ম্যাচই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে ওঠে। নির্বাচকরা সাধারণত এই আসরের পারফরম্যান্স নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, যা জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ করে পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজের আগে খেলোয়াড়দের ফিটনেস, ফর্ম ও মানসিক প্রস্তুতি যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করবে এই টুর্নামেন্ট। দীর্ঘমেয়াদি সংস্করণের ম্যাচ হলেও এতে খেলোয়াড়দের ব্যাটিং কৌশল, বোলিং ধারাবাহিকতা ও ম্যাচ পরিস্থিতি মোকাবিলার দক্ষতা মূল্যায়ন করা সম্ভব।
উদ্বোধনী ম্যাচে উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের লড়াই তাই শুধু পয়েন্টের হিসাবেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি জাতীয় দলের প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গেও সম্পর্কিত। দলগত সমন্বয়, অভিজ্ঞতা ও তরুণ ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স মিলিয়ে বিসিএলের এবারের আসর দেশীয় ক্রিকেটে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।


