মিজানুর রহমান মিনু রিকশায় চলাফেরায় রাজশাহী শহরে

মিজানুর রহমান মিনু রিকশায় চলাফেরায় রাজশাহী শহরে

 

রাজশাহী — জেলা প্রতিনিধি

রাজশাহী শহরে নতুন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিচিত সেই রিকশা যাত্রার রীতিকে অব্যাহত রাখছেন। শনিবার সকালে তিনি সরকারি গাড়ি বা প্রটোকল গ্রহণ না করে ভদ্রা এলাকার বাসা থেকে রিকশায় চড়ে সাহেববাজারের সবজির বাজারে যান এবং ফিরতি যাত্রাও রিকশায় সম্পন্ন করেন।

সকালবেলায় শহরের ভদ্রা এলাকা থেকে রিকশায় বের হওয়া মন্ত্রী সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে পৌঁছে প্রাতঃভ্রমণে আসা বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে কিছু সময় আলাপচারিতায় অংশ নেন। এর পর তিনি সাহেববাজারের একটি কমিউনিটি সেন্টারে যান এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। দুপুরে ফেরার পথে দড়িখড়বোনা এলাকার প্রায় ৪০ বছর পুরনো একটি সেলুনে যেয়ে চুল কাটান। সেলুন থেকে বের হওয়ার পর পুনরায় রিকশায় চড়ে বাসায় ফেরেন। রাস্তায় চলাফেরার সময় মন্ত্রী পথচারীদের সঙ্গে সালাম বিনিময় করেন। এই সময়ে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রব পান্না।

মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে ৩২ বছর বয়সে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং টানা ১৭ বছর মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। মেয়র থাকার সময় ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা।

মিনুর রিকশা যাত্রার প্রথা মেয়র হওয়ার আগ থেকেই চালু ছিল। নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও তিনি শহরের বিভিন্ন প্রান্তে গণসংযোগ করেছেন রিকশায় চড়ে। সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনে এ প্রথা অব্যাহত রয়েছে।

রিকশাচালক আব্দুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি মন্ত্রীকে বিভিন্ন স্থানে রিকশায় নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমার রিকশাতেই মিনু ভাই পুরো শহর ঘোরেন। আজও তিনি সরকারি গাড়ি নেননি। একজন মন্ত্রী হয়েও রিকশায় চলাফেরা করছেন, এটা আমার কাছে প্রশংসনীয়।”

ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রব পান্না বলেন, তিনি ১১ বছর ধরে মিনুর সঙ্গে কাজ করছেন। তার ভাষ্য, “আজ সকালে প্রটোকলের জন্য পুলিশের গাড়ি এসেছিল, সরকারি গাড়িও প্রস্তুত ছিল। কিন্তু তিনি কোনো প্রটোকল গ্রহণ করেননি। আগের মতোই রিকশায় বের হয়েছেন। তিনি সব সময় মানুষের কাছাকাছি থাকতে চান।”

মন্ত্রিত্ব গ্রহণের পরও মন্ত্রী মিনু সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ থাকার পাশাপাশি নিজের পরিচিত রিকশা যাত্রাকে অক্ষুণ্ণ রাখছেন। এ ধরনের চলাফেরা স্থানীয়দের মধ্যে মন্ত্রীর জনগণের সাথে সরাসরি সংযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় রাখার একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ