সালমান শাহ হত্যা মামলায় প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পুনঃনির্ধারণ

সালমান শাহ হত্যা মামলায় প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পুনঃনির্ধারণ

আইন আদালত ডেস্ক

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। মামলায় বাদী হিসেবে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় দায়ের করা এ মামলায় সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ মোট ১১ জন আসামি রয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত আগামী ৯ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন ধার্য করেছেন।

রোববার (তারিখ অনুযায়ী) মামলায় প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত থাকলেও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, রমনা মডেল থানার পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম খন্দকার তা জমা দিতে পারেননি। এই কারণে আদালত নতুন তারিখ ঠিক করেছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক জিন্নাত আলী এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে সালমান শাহের বাসায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বাদীর ভাগনে চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ (২৫) ছিলেন দেশের স্বনামধন্য চিত্রনায়ক। ওই দিন সকাল সাড়ে নয়টায় তাঁর মা নিলুফার জামান চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরী, বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ও ভাই শাহরান শাহসহ বাদী নিউ ইস্কাটনের বাসায় আসেন। তারা সিলেটে যাওয়ার পূর্বে সালমানের সঙ্গে দেখা করতে যান।

এজাহারে আরও উল্লেখ আছে, বাদীর বোন ও বোন জামাই গ্রিনরোডে পৃথকভাবে বসবাস করতেন। তারা যখন সালমানের বাসায় যান, তখন স্ত্রী সামিরা হক ও কর্মচারী আবুল জানান যে সালমান ঘুমাচ্ছেন। সেই সময় চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিকও সালমানের সঙ্গে দেখা করতে যান। সালমান ঘুমাচ্ছেন শুনে তার বাবা-মা ও প্রযোজক সিদ্দিক বাসা ত্যাগ করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম সালমান শাহর বাবাকে ফোন করে জানান যে, “যেন কী হয়েছে”। দ্রুত বাসায় গিয়ে তারা সালমানকে শোবার ঘরে পড়ে থাকতে পান। ওই সময় দু-একজন বহিরাগত নারী সালমানের হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর গলায় দড়ির দাগ এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ নীলচে হয়ে থাকতে দেখা যায়। প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, তিনি আগেই মারা গেছেন।

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

হত্যাকাণ্ডের প্রায় ২৯ বছর পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। আদালত তখন তদন্ত কর্মকর্তাকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। পরে তা বিভিন্ন কারণে স্থগিত হয়ে সম্প্রতি নতুন তারিখ ধার্য করা হয়।

মামলাটির পুনঃতদন্ত ও প্রতিবেদন দাখিলের পর আদালত সম্ভাব্য চার্জশিট গ্রহণ এবং বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে। হত্যাকাণ্ডটি দেশের চলচ্চিত্র ও বিনোদন ক্ষেত্রে একটি দীর্ঘদিনের আলোচিত ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ