জাতীয় ডেস্ক
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, দুই দেশকে নিরাপদ, শক্তিশালী ও উন্নত করতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করবে।
সোমবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। ঘন্টাব্যাপী এই বৈঠকের পর ক্রিস্টেনসেন সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই সাক্ষাতের তথ্য জানানো হয়।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, শক্তি ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধিতে একসঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার জন্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশাবাদ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাতের পরে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইইউ মিশনের প্রধান মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে স্পেন, জার্মানি, নরওয়ে, ফ্রান্স, ডেনমার্কসহ মোট আটটি দেশের রাষ্ট্রদূতরা। ইইউ প্রতিনিধিদল পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকগুলিতে বিশেষভাবে দুই পক্ষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো এবং দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই সাক্ষাৎ ও বৈঠকগুলো আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সম্প্রসারিত করার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা, অর্থনীতি, বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, শক্তি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের, যা দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক মঞ্চে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ ও সমঝোতার মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এই ধরনের উচ্চ পর্যায়ের সাক্ষাৎ ও আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে উন্নত কৌশল নির্ধারণ, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও নীতি সমন্বয় আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইইউ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক সংযোগকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনাকে আরও দৃঢ় করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকগুলোতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রকল্প, সহায়ক নীতি এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রসারের বিষয়গুলোও গুরুত্বসহ আলোচনা হয়েছে।
এই বৈঠকগুলোর ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রোফাইল বৃদ্ধি পাবে এবং নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হবে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সহমর্মিতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়ন নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


