রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় এক যুবক ইব্রাহিম খলিল শুভর উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মোহাম্মদপুর থানার সমন্বয়ক এবং ২০২২ সালের জুলাই হত্যা মামলার একজন সাক্ষী। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) তারাবির নামাজের পর এই হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বসিলার একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তি বোরকা ও মাস্ক পরে এসে ইব্রাহিমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।
ইব্রাহিমের পরিবারের দাবি, জুলাই হত্যা মামলার সাক্ষী হওয়ার কারণে তার উপর হামলা করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কিছু গ্রুপ দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সক্রিয় রয়েছে।
মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা বলেন, “আওয়ামী লীগের অফিস ও খাস জমি দখলসহ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে এই হামলা সংঘটিত হয়েছে। ইতোমধ্যে হামলার আসামী শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারে অভিযান, টহল এবং গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। আদাবর ও মোহাম্মদপুর থানায় ফোর্সও বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটবে না বলে আশা করা যাচ্ছে।”
এই ঘটনার মাধ্যমে রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা বিষয়ে নতুনভাবে সতর্কবার্তা পাওয়া গেছে। বিশেষ করে, উচ্চ প্রোফাইল মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা ও সংরক্ষণে পুলিশের তৎপরতা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া, বসিলা এলাকার নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন ও জনপদে সাধারণ মানুষজনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগও দেখা দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে যুক্ত সকল সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই এলাকায় তৎপরতা বাড়িয়ে নিরস্ত শান্তি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিয়েছে।
ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকাগুলোতে তল্লাশি ও সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া, স্থানীয়দের কাছে নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। হামলার প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা বিবেচনায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মনিটর করছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী ও রাজনৈতিক সহিংসতা সংক্রান্ত ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার নির্দেশনা দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনা শুধু নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নয়, এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকেও প্রভাবিত করে।
এ ঘটনায় ইব্রাহিম খলিল শুভ বর্তমানে হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থার উন্নতি হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত আসামীর দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


