খেলাধূলা ডেস্ক
স্প্যানিশ লা লিগায় লেভান্তের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের মাধ্যমে আবারও পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান দখল করেছে বার্সেলোনা। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) নিজেদের মাঠে অনুষ্ঠিত এ ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে কাতালান ক্লাবটি। এই জয়ে ২৫ ম্যাচ শেষে বার্সেলোনার সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৬১ পয়েন্টে। সমান ম্যাচে ৬০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।
এর আগে লিগের সর্বশেষ ম্যাচে ওসাসুনার বিপক্ষে পয়েন্ট হারায় রিয়াল মাদ্রিদ। সেই ফলের পর শীর্ষস্থান পুনর্দখলের সুযোগ তৈরি হয় বার্সেলোনার সামনে। লেভান্তের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে সক্ষম হয় হ্যান্সি ফ্লিকের দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকে বার্সেলোনা। চতুর্থ মিনিটেই প্রথম গোলের দেখা পায় স্বাগতিকরা। এরিক গার্সিয়ার ক্রস থেকে বল পেয়ে বার্নাল স্লাইড করে জালে পাঠান। দ্রুত পাওয়া এই গোল ম্যাচের গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে ম্যাচের প্রথম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল লেভান্তে। কার্লোস আলভারেসের শট লক্ষ্যে থাকলেও তা যথেষ্ট জোরালো না হওয়ায় গোলরক্ষক সহজেই পরিস্থিতি সামাল দেন।
প্রথম গোলের পর বলের দখল ও আক্রমণ সংগঠনে এগিয়ে থাকে বার্সেলোনা। ৩২তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফ্রেংকি ডি ইয়ং। ডান দিক দিয়ে উঠে আসা জোয়াও ক্যানসেলোর পাস থেকে নিয়ন্ত্রিত শটে গোল করেন তিনি। প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই ধারায় খেলতে থাকে বার্সেলোনা। বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে আক্রমণ সাজালেও গোল পেতে অপেক্ষা করতে হয় ম্যাচের শেষভাগ পর্যন্ত। ৮০তম মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে তৃতীয় গোলটি আসে। ইয়ামালের কাছ থেকে বল পেয়ে ফার্মিন লোপেজ দূর থেকে জোরালো শটে জাল খুঁজে নেন। এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচের ফল কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়।
এই ম্যাচে ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফেরেন পেদ্রি। শুরুর একাদশে ছিলেন রাফিনিয়াও। মাঝমাঠে পেদ্রির উপস্থিতি ও ডি ইয়ংয়ের সক্রিয় ভূমিকা বার্সেলোনার আক্রমণ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। রক্ষণভাগও ছিল সংগঠিত, ফলে লেভান্তে উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।
বর্তমান মৌসুমে শিরোপা দৌড়ে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠেছে। সমান ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্টের ব্যবধান দুই দলের মধ্যে প্রতিযোগিতার চিত্র স্পষ্ট করছে। লিগের বাকি ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে শিরোপা লড়াইয়ে এগিয়ে থাকার সুযোগ পাবে শীর্ষে থাকা দলটি।
লেভান্তের বিপক্ষে এই জয় বার্সেলোনার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গোল ব্যবধান ও পয়েন্ট সংগ্রহের দিক থেকেও এটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। মৌসুমের শেষভাগে এসে প্রতিটি ম্যাচের ফলাফল শিরোপা নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে, ফলে সামনের ম্যাচগুলো দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


