জাতীয় ডেস্ক
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সোমবার থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব (প্রশাসন) কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯-এর বিধান অনুসারে অফিস শৃঙ্খলা মেনে চলবেন। বিনা অনুমতিতে অফিসে অনুপস্থিত থাকা, অনুমতি ছাড়া অফিস ত্যাগ করা এবং দেরিতে অফিসে প্রবেশ করা শৃঙ্খলাভঙ্গের মধ্যে গণ্য হবে।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে কর্মদিবসে সকাল ৯টার মধ্যে নিজ নিজ দপ্তরে উপস্থিত থাকতে হবে। পবিত্র মাহে রমজান চলাকালীন অফিস শেষ হওয়ার পূর্বে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট, এবং রমজান-পরবর্তী সময়ে বিকেল ৫টার আগে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিস ত্যাগ করতে পারবে না।
অফিস চলাকালীন সময়ে কোনো জরুরি প্রয়োজনে বা দাপ্তরিক কাজের জন্য দপ্তর ত্যাগ করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তার অনুবিভাগের প্রধান (যুগ্ম সচিব/সলিসিটর)-এর অনুমতি নিতে হবে। অনুমোদন প্রাপ্ত হলে তারা সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯-এর তফসিল অনুযায়ী অফিস ত্যাগের রেজিস্টারে এন্ট্রি এবং ডিজিটাল হাজিরা প্রদান করতে হবে।
অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, যেকোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি বিনা অনুমতিতে অফিসে অনুপস্থিত থাকে, অফিস ত্যাগ করে বা দেরিতে উপস্থিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী শৃঙ্খলাগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, এই নির্দেশনার লক্ষ্য অফিসের সময়নিষ্ঠা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার মাধ্যমে দাপ্তরিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, সময়মতো উপস্থিতির মাধ্যমে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সেবাপ্রদানের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার বিলম্ব এড়ানো সম্ভব হবে।
সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলা, নিয়মিত উপস্থিতি ও দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করার জন্য আইন ও বিচার বিভাগের এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অফিস আদেশ যথাযথভাবে কার্যকর হলে কর্মক্ষেত্রে সময়নিষ্ঠা এবং দায়িত্বপরায়ণতা বৃদ্ধি পাবে, যা সরকারি সেবা প্রদান প্রক্রিয়াকে আরও ধারাবাহিক ও কার্যকর করবে।


