জাতীয় ডেস্ক
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় চলতি মাসের মধ্যে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সরকারি বাসভবন ছেড়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কারও বিশেষ অসুবিধা থাকলে সর্বোচ্চ এক থেকে দুই মাসের সময় দেওয়া হবে। তবে মার্চ বা এপ্রিল মাসে কেউ সরকারি বাসায় থাকলে সরকার নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করতে হবে।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসও আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি বাসভবন যমুনা ছেড়ে ঢাকার গুলশানের নিজ বাসায় স্থানান্তরিত হবেন। তবে ফেব্রুয়ারির পর কোনো সাবেক উপদেষ্টা বা অন্যান্য কর্মকর্তারা সরকারি বাসায় থাকতে চাওয়ার বিষয়টি আবাসন পরিদপ্তরকে জানাননি।
আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান জানান, সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য নির্ধারিত নীতিমালা থাকলেও সাবেক উপদেষ্টাদের জন্য এ ধরনের কোনো নিয়ম নেই। তারা কোনো পেনশন সুবিধা পান না। এজন্য বিষয়টি তাদের অবহিত করা হয়েছে। পরিচালক আশা প্রকাশ করেন, চলতি মাসের মধ্যে সকল সাবেক উপদেষ্টা বাসা ছাড়বেন। বিশেষ প্রয়োজন থাকলে এক মাসের অতিরিক্ত সময় মঞ্জুর করা হতে পারে এবং সেই ক্ষেত্রে ভাড়া আদায় করা হবে। ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনের কারণে ওই মাসের ভাড়া নেওয়া হবে না।
সরকারি বাসভবনের সংখ্যা ও বরাদ্দ সংক্রান্ত তথ্যও জানানো হয়েছে। সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের জন্য মিন্টো রোড ও হেয়ার রোডে ২৪টি বাংলো এবং ১২টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতার জন্য আলাদা একটি বাসভবন রয়েছে। আবাসন পরিদপ্তর দ্রুত মেরামত করে এক মাসের মধ্যে বর্তমান সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রীদের বরাদ্দ দিতে চায়। বর্তমানে এসব বাসায় অবস্থানরত সাবেক সরকারের কর্মকর্তাদের গণপূর্ত অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অবহিত করা হয়েছে।
পরিদপ্তর আশা করছে, চলতি মাসে বাসাগুলো খালি হলে রংচং ও মেরামত করে নতুন মন্ত্রীরা পর্যায়ক্রমে বরাদ্দ পাবেন। ইতোমধ্যে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার ২১ জন আবাসনের জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন। বরাদ্দ প্রদানের বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম এবং আবাসন পরিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। আবেদনকারীরা সরেজমিন পরিদর্শন করে মন্ত্রীর দপ্তরকে নিজেদের পছন্দের বাসা জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন ৪৯ জন। এছাড়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী রয়েছেন ১০ জন। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য আপাতত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ব্যবহার করা হবে। তবে মোট বাসা-অ্যাপার্টমেন্ট সংখ্যা ৩৭টি, যা বর্তমান প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষে পুনরায় নিজের কর্মস্থল ইউনূস সেন্টারে ফিরে গেছেন। রোববার সকালে রাজধানীর মিরপুরের টেলিকম ভবনে তিনি ইউনূস সেন্টারে পৌঁছালে দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি গ্রামীণ সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ইউনূস সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অন্যান্য উপদেষ্টারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ড. ইউনূসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।


