অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান নগদ-এর মালিকানা ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ কাঠামো নির্ধারণে নতুন সরকারের নীতির প্রভাব থাকবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। তিনি জানান, নগদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া এখনও বাকি রয়েছে এবং সরকার যদি বেসরকারি খাতে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবেই বিনিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এই বৈঠকটি নগদে সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে চলমান আলোচনার ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত হয়। আরমান জানান, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং খাতে আগ্রহী এবং বিনিয়োগের আগে নগদের আর্থিক অবস্থা যাচাইয়ের জন্য একটি অডিট করানো হবে।
ডাকা-১৪ আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত আরমান বলেন, তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে নয়, বরং একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। এর আগে তিনি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান যেমন ডেল, মাইক্রোসফট, অ্যাপল ও উবারের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় এ ধরনের দায়িত্ব পালনের কারণে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার রাজনীতি করার লক্ষ্য জনগণের সেবা, আর পরিবার চালানোর জন্য আইন পেশায় নিয়োজিত।
গত বছরের ২৫ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছিলেন, নগদকে ডাক অধিদপ্তরের হাত থেকে বেসরকারি খাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি তখন বলেছিলেন, নগদের মালিকানা তিন থেকে চার মাসের মধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং নতুন বিনিয়োগকারী খুঁজে বের করা হচ্ছে, কারণ পোস্ট অফিসের পক্ষে এটি পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
২০১৯ সালের ২৬ মার্চ যাত্রা শুরু করা নগদ পরবর্তী সময়ে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স পেয়েছে। তবে বিগত সরকারের সময় প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ম ভেঙে সুবিধা প্রদানের অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর নগদের পর্ষদ ভেঙে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশাসক নিয়োগ দেয়। পরে উচ্চ আদালত এটি অবৈধ ঘোষণা করলে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করে ডাক অধিদপ্তর।
এছাড়া, নগদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক মামলা দায়ের করে। মামলায় সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুকসহ মোট ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।


