বিমানবন্দরে ১৪ বোতল বিদেশি মদসহ অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর ঘটনায় বিস্ফোরক তথ্য দিলেন তিশা-তোলপাড়

বিমানবন্দরে ১৪ বোতল বিদেশি মদসহ অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর ঘটনায় বিস্ফোরক তথ্য দিলেন তিশা-তোলপাড়

বিনোদন ডেস্ক

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৪ বোতল বিদেশি মদসহ জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর আটক এবং এরপর কাস্টমসের মাধ্যমে ছাড়প্রাপ্ত হওয়া ঘটনায় নতুন তথ্য উঠে এসেছে। ঘটনার সঙ্গে প্রভাব খাটানোর অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার নাম যুক্ত হয়েছে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৭ আগস্ট ব্যাংকক থেকে ঢাকার বিএস-২১৮ ফ্লাইটে ফিরছিলেন মেহজাবীন চৌধুরী, তার স্বামী আদনান আল রাজীব ও নির্মাতা শঙ্খ দাসগুপ্ত। গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাদের লাগেজ তল্লাশি করে ১৪ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করে। এ ধরনের পণ্য অবৈধভাবে বহনের দায়ে মামলা হওয়ার বিধান থাকলেও, তাদের মুচলেকা ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়। জব্দ পণ্যের রসিদ তৈরি করা হলেও বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংবাদ সূত্র জানায়, এ ঘটনায় প্রভাব খাটিয়েছেন সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। নুসরাত তিশা সম্প্রতি একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের অফিসে আড্ডায় অংশ নেন, যেখানে মেহজাবীনের আটককাণ্ডের বিষয়টি আলোচিত হয়। সেখানে তিনি স্বীকার করেন যে, মেহজাবীনের পক্ষ থেকে তার কাছে ফোন কল আসে এবং প্রভাব খাটিয়ে কাস্টমস ছাড় প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা হয়।

ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রটোকল কর্মকর্তা ও এভিয়েশন সিকিউরিটির দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মদের বিষয়ে তাদের পূর্বেই কোনো তথ্য ছিল না এবং তারা মুচলেকা প্রদান করে বিষয়টি কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেননি।

মেহজাবীন চৌধুরী শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এই কাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন। তিনি সেখানে সরাসরি মদের উপস্থিতি স্বীকার না করে দাবি করেছেন, ক্যারিয়ারের এই সময়ে তার প্রতি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেটিং করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘আমি যখন নতুন করে কাজে মনোনিবেশ করেছি, ঠিক তখনই আবার আমার মানহানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নারীরাই আজকাল সহজ টার্গেট হচ্ছে, এর পেছনে কে বা কারা আছে তা আমার জানা নেই।’

উল্লেখ্য, দেশে অবৈধভাবে মদ আনা ও বহনের বিষয়টি আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই ঘটনায় কাস্টমসের ছাড় এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগটি এখনো তদন্তাধীন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

বিনোদন জগত এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া ব্যাপক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক, যেখানে কিছু অংশ অনৈতিক প্রভাব ও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আইন প্রণয়নকারী ও নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলি বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিনোদন শীর্ষ সংবাদ