বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আরও ১২০২টি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন

বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আরও ১২০২টি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন

জাতীয় ডেস্ক

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক আরও ১২০২টি মামলার প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই তথ্য মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত একটি খুদেবার্তায় জানানো হয়।

বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, এসব মামলা মূলত রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয় এবং অনুমোদনের মাধ্যমে ওই নেতাকর্মীরা দীর্ঘকাল ধরে চলা হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে মামলা প্রত্যাহারের মাধ্যমে বহু নাগরিক আইনি জটিলতা থেকে রক্ষা পাবেন।

এর আগে, ২২ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক ১০০৬টি মামলার প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ৮ ফেব্রুয়ারি আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে। এই অনুমোদনের ফলে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ হয়রানিমূলক মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।

পলিটিক্যাল ইস্যু সংক্রান্ত এসব মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া আদালত ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। প্রতিটি মামলা পৃথকভাবে পর্যালোচনা করা হয় এবং আইন অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক নথি ও কার্যক্রম যাচাই করার পরই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক হয়রানি এবং মামলা প্রত্যাহারের এই উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে। তবে, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সব ক্ষেত্রে সমতা বজায় রাখা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

মামলা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই অনেক নেতা ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটি রাজনৈতিক পুনর্মিলনের অংশ এবং নাগরিকদের আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক বিরোধিতা নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করা এবং নাগরিকদের বিরুদ্ধে অযথা মামলা ব্যবস্থার সুযোগ সীমিত করা। আইন মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিলিতভাবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ