চব্বিশ জুলাই গণঅভ্যুত্থান: ইন্টারনেট বন্ধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণ

চব্বিশ জুলাই গণঅভ্যুত্থান: ইন্টারনেট বন্ধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণ

 

আইন আদালত ডেস্ক

চব্বিশ জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার মাধ্যমে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণ আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সাক্ষ্যগ্রহণে অংশ নেবেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। মামলায় মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ১০ জন ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন। ১০ জন আসামি বর্তমানে কারাগারে থাকলেও বাকি ৭ জন এখনও পলাতক।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই ২০০৫ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন সরকার দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়। এই সময়টাতে ছাত্র ও সাধারণ জনগণের আন্দোলন দমন করতে হত্যাযজ্ঞ, গ্রেপ্তার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, ইন্টারনেট শাটডাউনের মাধ্যমে তথ্যপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে এসব অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই ঘটনার ভিত্তিতে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে মামলা দায়ের করে এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

একই দিনে ট্রাইব্যুনালে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান বিন কাশেমের বিরুদ্ধে র‍্যাবের টিএফআই সেলে গুম ও দীর্ঘমেয়াদী নির্যাতনের ঘটনায় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করবেন। তিনি ইতিমধ্যেই ট্রাইব্যুনালে তার ওপর চালানো নির্যাতনের বর্ণনা সাক্ষ্য হিসেবে প্রদান করেছেন। ব্যারিস্টার আরমানকে গুম এবং অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আদালতের প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, সাক্ষ্যগ্রহণে আসামিপক্ষ ও তৎকালীন সরকারের নীতি, কর্মপদ্ধতি এবং ইন্টারনেট শাটডাউনের প্রভাবের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মামলার ফলাফল দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হতে পারে, কারণ এটি গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সরকারী দমননীতি নিয়ে স্পষ্ট বিচারিক সিদ্ধান্ত প্রদান করবে।

ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ অনুযায়ী, চব্বিশ জুলাই আন্দোলনের সময় সারা দেশে তথ্যপ্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ ও বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন স্থানে নিহত ও আহতদের সংখ্যা ব্যাপক এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলি এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজরদারি করেছে। মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনার প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন এবং দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষ্যগ্রহণের পর আগামী দিনে অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ ও বিশ্লেষণ পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়টি মানবাধিকার ও আইনি বিশ্লেষকেরাও নজর রাখছেন, কারণ এটি দেশের বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা, গণতন্ত্র এবং শাসনপ্রণালীকে প্রভাবিত করতে পারে।

মোটপক্ষে, চব্বিশ জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত এই মামলার প্রক্রিয়া দেশের বিচার ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত বিস্তারিত শুনানি ও তদন্তের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ