আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে উৎখাতের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ৮০ মিলিয়নেরও বেশি ব্যারেল তেল পেয়েছে। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ভেনেজুয়েলার সঙ্গে নতুন অংশীদারত্বের কথাও উল্লেখ করেন।
হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এ ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অংশীদার ভেনেজুয়েলার কাছ থেকে ইতোমধ্যে ৮ কোটি ব্যারেলেরও বেশি তেল সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, মার্কিন তেল উৎপাদন প্রতিদিন ৬ লাখ ব্যারেলের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে বিন্যস্ত হয়েছে। জানুয়ারিতে মাদক পাচার ও অন্যান্য অপরাধের অভিযোগে মাদুরোকে আটকের নির্দেশ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট বলেন, এরপর দেশটির ওপর আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। প্রশাসনের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, উৎপাদন বৃদ্ধি ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভেনেজুয়েলা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রমাণিত তেল মজুদের দেশ। তবে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির তেল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ পূর্বে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রসংক্রান্ত ইস্যুতে কারাকাসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও তেল আমদানি বৃদ্ধির ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়া–ইউক্রেন ইস্যুর প্রেক্ষাপটে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব উৎপাদন বাড়ানো এবং বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করার কৌশল নিয়েছে। প্রতিদিন ৬ লাখ ব্যারেল উৎপাদন বৃদ্ধির দাবি বাস্তবায়িত হলে তা আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে রাজনৈতিক দিক থেকেও এ সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে আটক নির্দেশ ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মতো পদক্ষেপ একদিকে কূটনৈতিক বার্তা বহন করে, অন্যদিকে জ্বালানি স্বার্থকেও অগ্রাধিকার দেয়। এ অবস্থার ফলে যুক্তরাষ্ট্র–ভেনেজুয়েলা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও জ্বালানি নীতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবেশগত প্রভাব এবং বৈদেশিক নির্ভরতার প্রশ্নে বিভিন্ন পক্ষ ভিন্নমত পোষণ করে থাকে। ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান অবস্থান জ্বালানি খাতে উৎপাদন সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জোরদারের দিকেই ইঙ্গিত করছে।
সার্বিকভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষণে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সংগ্রহ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়গুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কৌশলের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এ নীতির বাস্তবায়ন ও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে কীভাবে প্রতিফলিত হয়, তা সময়ই নির্ধারণ করবে।


