আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তুরস্কের বালিকেসি প্রদেশে মঙ্গলবার গভীর রাতে একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে পাইলটের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বিমানটি বালিকেসি থেকে উড্ডয়ন করার পর রেডিও ও ট্র্যাকিং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাইলটের মৃত্যু হয়েছে এবং তার পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, বিমান বিধ্বস্ত তদন্ত দল ঘটনাস্থল, যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করে দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই ধরনের দুর্ঘটনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, জানুয়ারিতে তাইওয়ানে একটি এফ-১৬ সমুদ্রে বিধ্বস্ত হয়েছিল, যেখানে পাইলট জরুরি বের হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এছাড়া আগস্টে পোল্যান্ডে এয়ার শোর মহড়ার সময় একটি এফ-১৬ বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট নিহত হয়েছিলেন। গত বছরের নভেম্বরে জর্জিয়ায় সি-১৩০ কার্গো বিমান বিধ্বস্তে ২০ যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। এই তথ্যগুলো সামরিক বিমাননিরাপত্তা ও বিমান দুর্ঘটনার ইতিহাসে সাম্প্রতিক কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দুর্ঘটনার প্রমাণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
এফ-১৬ যুদ্ধবিমানগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণ সত্ত্বেও, যান্ত্রিক ত্রুটি, জলবায়ু পরিস্থিতি বা মানব ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করার জন্য পাইলটের প্রশিক্ষণ, বিমান পরিচালনা ব্যবস্থা এবং যান্ত্রিক উপাদান সম্পর্কিত সমস্ত দিক যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
পেশাদার ও সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের বিমান বিধ্বস্ত ঘটনা কেবল একজন পাইলটের জীবনহানির বিষয় নয়, বরং সামরিক প্রস্তুতি, বিমান flotilla নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সামরিক মহড়ার নিরাপত্তার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামরিক বিমাননিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত হালনাগাদ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।
এই দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে এফ-১৬ বহর পরিচালনা ও বিমাননিরাপত্তা ব্যবস্থার পর্যালোচনা করা হতে পারে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্ঘটনা তদন্তে সঠিক তথ্য ও বিশ্লেষণ ভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে বিমান দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব হবে।


