নারায়ণগঞ্জ ডেস্ক
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় নগরভবনে প্রবেশ করে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ সময় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, জেলা ও মহানগরের দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন প্রশাসককে স্বাগত জানান।
দায়িত্ব গ্রহণের পর নির্ধারিত কক্ষে অফিস কার্যক্রম শুরু করেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি জানান, নগরের প্রধান সমস্যা সমাধানের জন্য ৬০ দিনের একটি বিশেষ কর্মসূচি ইতিমধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। এ কর্মসূচির মধ্যে অগ্রাধিকার হিসেবে রাখা হয়েছে রাস্তাঘাট সংস্কার, যানজট নিরসন, ফুটপাতের হকার ব্যবস্থাপনা এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, নাগরিক সমাজ, দলীয় নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন পেশাজীবীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জে প্রশাসক নিয়োগের প্রেক্ষাপটটি গত কয়েক বছরে সিটি করপোরেশন পরিচালনার পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর ১৯ আগস্ট সরকার দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। নারায়ণগঞ্জে প্রথম প্রশাসক হিসেবে ২১ আগস্ট যোগ দেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এএইচএম কামরুজ্জামান। পরে যুগ্ম সচিব ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ প্রশাসকের দায়িত্ব পান।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার পর ২২ ফেব্রুয়ারি দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এই নিয়োগ পান। এর মাধ্যমে তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খাঁনের দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে শহরের নাগরিক ও প্রশাসনিক সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করা হয়েছে। নগর রাস্তাঘাটের সংস্কার, যানজট নিরসন এবং ফুটপাত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ ছাড়াও, সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, নতুন প্রশাসকের নেতৃত্বে শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি সম্ভব হতে পারে। এছাড়া নগরের নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম সুসংগঠিত করতে এবং বিভিন্ন সমস্যার দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করতে প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অপরিহার্য।
নাগরিকদের সুবিধা ও সেবার মান বৃদ্ধি করার জন্য অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান প্রথম ৬০ দিনে নগরের অবকাঠামোগত ও যান্ত্রিক সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেবেন বলে তিনি জানান। এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে নগরের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।
নগর প্রশাসনের এই নতুন পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় সরকারের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, দ্রুত সেবা এবং নগর পরিবেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসক তার দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় স্থাপন করে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন।


