বাংলাদেশ ডেস্ক
বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথম বিদেশ সফরে সৌদি আরবে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) দ্বারা আহ্বানকৃত জরুরি বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত দেড়টার পর ঢাকা ত্যাগ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী বৃহস্পতিবার জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসির মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হবে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আগ্রাসন এবং সেখানে নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি। এছাড়া বৈঠকে সংস্থার সদস্য দেশগুলো এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের উপায়গুলো নিয়ে আলোচনা করবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সফরের ফাঁকে ওআইসির অন্যান্য সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করতে পারেন। এ ধরনের বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালী করা, দ্বন্দ্ব নিরসন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো আলোচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সৌদি আরব সফরের পরে খলিলুর রহমান আগামী শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দেশে ফেরার কথা রয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা যায়, বৈঠকের ফলাফল বাংলাদেশের পক্ষে বৈদেশিক নীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা, মুসলিম দেশগুলোর সমন্বয় এবং মানবিক সহায়তা বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও প্রভাব বাড়ানো এ সফরের প্রধান লক্ষ্য।
সৌদি আরবের রাজধানী জেদ্দা অনুষ্ঠিত ওআইসির জরুরি মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠক আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সম্প্রতি অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের আগ্রাসন ও সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা মানবিক সংকট মোকাবিলা, শান্তিপ্রচেষ্টা ও সদস্য দেশের অবস্থান একরূপ করার উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর কেবল ওআইসির বৈঠকে অংশগ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কূটনীতিক কর্মকাণ্ডকে আরও দৃঢ় ও সক্রিয় করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকের ফলাফলে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে বাংলাদেশের স্থিতি ও ভূমিকা আরও সুদৃঢ় হবে বলে কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।


