পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ জনগণের কাছে স্পষ্ট: প্রধানমন্ত্রী

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ জনগণের কাছে স্পষ্ট: প্রধানমন্ত্রী

 

জাতীয় ডেস্ক

জাতীয় শহীদ সেনা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিলখানায় ২০০৯ সালের বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত সেনা হত্যাযজ্ঞের নেপথ্য কারণ জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, ২০০৯ সালের ওই ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা সহ মোট ৭৪ জন শহীদ হয়েছেন। ২০০৯ সালের পর দিনটি যথাযথভাবে পালন করা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে দিনটি ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। আজকের এই বিশেষ দিনে আমরা সেনা হত্যাযজ্ঞে শহীদদের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করছি।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনও চলমান। তবে এই হত্যাযজ্ঞের নেপথ্যে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী তৎপরতা কাজ করেছিল। তিনি বলেন, “নাগরিক হিসেবে এই বিষয়টি আমাদের উপলব্ধিতে থাকা জরুরি। হত্যাকাণ্ডের পর নানা ধরনের মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছিল।”

প্রধানমন্ত্রী বলছেন, সশস্ত্র বাহিনী স্বাধীন দেশের সম্মান, বীরত্ব ও গৌরবের প্রতীক। তিনি সব নাগরিককে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান যাতে ভবিষ্যতে কেউ সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে না পারে। তিনি বলেন, “দেশ এবং জনগণের স্বার্থের বিপরীতে যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াব– এই হোক শহীদ সেনা দিবসের প্রত্যয়।”

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি, তখনকার বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের উপর হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। এই ঘটনায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের পর দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশেষভাবে চাঞ্চল্যকর হয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দমন, বিচারের প্রক্রিয়া এবং দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ নিয়ে নানা বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

জাতীয় শহীদ সেনা দিবসের উদযাপন পূর্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং বিভিন্ন সরকারী ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে থাকে। দিনটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অপরিসীম।

বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সরকার বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, যার মধ্যে স্মরণসভা, মিলাদ, দোয়া মাহফিল এবং শহীদ পরিবারের সঙ্গে সংবেদনশীল আলোচনা অন্তর্ভুক্ত থাকে। এই ধরনের উদ্যোগ জনগণের মধ্যে জাতীয় চেতনা ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা প্রদান করে।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী থেকে প্রতীয়মান হয় যে, পিলখানা হত্যাকাণ্ড শুধুমাত্র সামরিক বা বিচার সংক্রান্ত বিষয় নয়, এটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং নাগরিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ন ঘটনা। দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে এই হত্যাযজ্ঞের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি এবং এটি জাতিকে পুনরায় জাতীয় ঐক্য ও সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা রক্ষায় উদ্দীপ্ত করছে।

শহীদ সেনা দিবসের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের স্বাধীনতা ও সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা রক্ষা করা এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের হত্যাযজ্ঞ প্রতিরোধে জনসাধারণ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ