বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন নিয়ে অর্থমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন নিয়ে অর্থমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

 

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

নতুন সরকারের অগ্রাধিকার ও নীতিগত কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

গভর্নর পরিবর্তনের পেছনে কী বিবেচনা কাজ করেছে—এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে নীতিগত সমন্বয় ও প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস করা হয়ে থাকে। সরকারের নির্ধারিত অগ্রাধিকার, কর্মপরিকল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পরিবর্তন কেবল বাংলাদেশ ব্যাংকেই সীমাবদ্ধ নয়; অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকতে পারে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর তার কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় পুনর্গঠন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। সরকারের অর্থনৈতিক নীতিমালা, মুদ্রানীতি এবং আর্থিক খাতের সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

এদিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের জারি করা দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে মো. মোস্তাকুর রহমানকে আগামী চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা, ব্যাংকিং খাতের তদারকি এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে গভর্নর পদে পরিবর্তন আর্থিক খাতের নীতি ও কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতির চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা জোরদারের মতো বিষয়গুলো সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে পরিবর্তনকে সরকারের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন সাধারণত মুদ্রানীতির দিকনির্দেশনা, আর্থিক খাতের সংস্কার এবং ব্যাংকিং তদারকি ব্যবস্থায় নতুন অগ্রাধিকার নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সামনে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ও আর্থিক খাতের কাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রমও তার দায়িত্বের অংশ হবে।

সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চার বছরের জন্য নিয়োগ পাওয়া নতুন গভর্নর দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এবং প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালার আওতায় তার দায়িত্ব পালন করবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সরকারের অর্থনৈতিক লক্ষ্য বাস্তবায়নে সমন্বিত ভূমিকা রাখাই হবে তার প্রধান দায়িত্ব বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ