অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিক নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে ৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, এই ডলার ক্রয় কার্যক্রম মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।
চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয় এখন পর্যন্ত ১,৫৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এ বছর অর্থবছরের শুরু থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ক্রয় করা হয়েছে ৫,৪৬৮.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই পরিসংখ্যান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মিত বৈদেশিক মুদ্রা নিলাম প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ডলারের প্রতি টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি রেমিট্যান্স ও রপ্তানি খাতের সুষ্ঠু কার্যক্রম নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এই নিলাম আয়োজন করা হয়। তিনি আরও জানান, বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় ও বাজারে সরবরাহের এই কার্যক্রম মূলত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কৌশলের অংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স প্রবাহ ও রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন নিলাম কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকলে আমদানি খাতও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও আমদানিকারকরা আরও নির্ভরযোগ্য মূল্যে বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় করতে সক্ষম হয়।
এছাড়া, আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের মূল্য ওঠানামা, বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাহিদা বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত ডলার নিলাম পরিচালনা করছে। ব্যাংকের নীতি অনুযায়ী, ডলার ক্রয় কার্যক্রমের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা মজুত বাড়ানো হচ্ছে এবং এটি দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
গত কয়েক মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রবাসী শ্রমিক ও বিভিন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভকে শক্তিশালী করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, চলতি অর্থবছরের বাকি সময়েও এই ধরনের নিলাম চালু থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ডলার ক্রয় বাড়ানো হতে পারে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, নিয়মিত ও পরিকল্পিত নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হচ্ছে। ডলার ক্রয় কার্যক্রম টাকার মান ও রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা রপ্তানি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপ ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি এবং বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশি ও বৈদেশিক বিনিয়োগকারীরাও টাকার স্থিতিশীলতা এবং বাজারে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার প্রাপ্যতা দেখে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণে আগ্রহী হচ্ছেন।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিলাম ও ডলার ক্রয় কার্যক্রম দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি প্রবাহ ধরে রাখার একটি সক্রিয় কৌশল হিসেবে কার্যকর হচ্ছে।


