বিডিআর হত্যাকাণ্ড: জাতীয় নিরাপত্তা ব্যাহত করার চক্রান্তের অভিযোগ

বিডিআর হত্যাকাণ্ড: জাতীয় নিরাপত্তা ব্যাহত করার চক্রান্তের অভিযোগ

জাতীয় ডেস্ক

বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে দেয়ার জন্য একটি গভীর চক্রান্ত করা হয়েছিল। তিনি বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় বনানীর সামরিক কবরস্থানে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর সময় এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুলের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই হত্যাকাণ্ডে চৌকস ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা এবং অন্যান্য ১৫ জনসহ মোট ৭২ জনকে হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের মনোবল ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্য ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে দেশের জনগণ স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও গণতন্ত্রকে সংরক্ষণের লক্ষ্যে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে এসেছে। বিশেষ করে বিগত নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ পেয়ে দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করার কাজ করতে সক্ষম হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মন্তব্য করেন, জাতীয়তাবাদী দল অতীতের মতোই দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে অক্ষুণ্ণ রেখে দায়িত্ব পালন করবে। তিনি বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত করা এবং দায়ীদের আইনের আওতায় এনে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

মির্জা ফখরুল নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারকে গভীর সমবেদনা জানান এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের বাস্তব কারণ উদঘাটনের গুরুত্ব উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটি শুধুমাত্র একটি বিচারের বিষয় নয়, একই সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্গঠন এবং সামরিক শক্তির মনোবল পুনঃস্থাপনের জন্যও অপরিহার্য।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থান চেষ্টার অংশ হিসেবে বিডিআরকে লক্ষ্য করে করা এই হত্যাকাণ্ড দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গভীর দুর্বলতা প্রকাশ করে। দেশের ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন সময় সরকারি ও সামরিক পর্যায়ে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া চললেও, এখনও পর্যন্ত তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনগত আলোচনা দেশের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে।

মির্জা ফখরুলের মন্তব্যের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের দায়ীদের বিচারের দাবি পুনরায় জোরদার হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একযোগে কাজ করলে এ ধরনের চক্রান্ত পুনরায় প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। রাজনৈতিক নেতারা সামরিক এবং নাগরিক নিরাপত্তার অব্যাহততা নিশ্চিত করার জন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার প্রয়োজনীয়তা বলেও মনে করছেন।

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের সামরিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। এটি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা, সশস্ত্র বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সমস্যাসহ রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার প্রতি গুরুত্বারোপ করে। হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এ ঘটনায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক মনোবল রক্ষার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক কাঠামোকে সুদৃঢ় করা বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব। তিনি আশ্বাস দেন, এ ধরনের জঘন্য হত্যাকাণ্ড পুনরায় সংঘটিত হবে না, এবং দেশের সশস্ত্র বাহিনী ও জনগণ একত্রে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ