অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে বিদ্যমান গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে। উভয় আদেশই জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদারের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে চার বছরের জন্য মো. মোস্তাকুর রহমানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তিনি বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গ্রহণ করবেন। নিয়োগসংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, ব্যাংকিং খাতের তদারকি, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ প্রেক্ষাপটে গভর্নর পদে নতুন নিয়োগ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
মো. মোস্তাকুর রহমান পেশায় একজন হিসাববিদ। তিনি তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হেরা সোয়েটার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকসংক্রান্ত বিজিএমইএর স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বেসরকারি খাতে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা ও রপ্তানিমুখী শিল্পখাতে অভিজ্ঞতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণে কীভাবে প্রতিফলিত হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সরকারি প্রজ্ঞাপনে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
অন্যদিকে, একই দিনে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ড. আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হলো। এ আদেশও জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে এবং অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। তাঁর নিয়োগ বাতিলের কারণ সম্পর্কে প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ ও অপসারণের বিষয়টি সাধারণত সরকারের নির্বাহী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা এবং নীতিগত ধারাবাহিকতার প্রশ্নে গভর্নরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নেতৃত্বে পরিবর্তন আর্থিক বাজার, ব্যাংকিং খাত ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন গভর্নরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ব্যাংক এসব ইস্যু মোকাবিলায় কী ধরনের নীতি ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহল নজর রাখছে।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত শর্ত অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের আগে মো. মোস্তাকুর রহমানকে তাঁর অন্যান্য পেশাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা থেকে অব্যাহতি নিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিরপেক্ষতা ও স্বার্থের সংঘাত এড়ানোর বিষয়টি এ শর্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ পদে এ পরিবর্তন দেশের আর্থিক খাতের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


