খেলাধূলা ডেস্ক
ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের শীর্ষ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ-এ দ্বিতীয় লেগে ঘরের মাঠে ২-১ গোলের জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে স্পেনের ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় তারা। বুধবার রাতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলেই জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
ম্যাচের শুরুটা রিয়ালের জন্য স্বস্তিদায়ক ছিল না। ১৪তম মিনিটে আক্রমণ থেকে গোল হজম করে বসে স্বাগতিক দল। ডান প্রান্ত থেকে নেওয়া শট প্রথমে রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়া রুখে দিলেও ফিরতি বলে প্রতিপক্ষের রুই সিলভা জালে বল পাঠান। এতে ম্যাচে এগিয়ে যায় সফরকারীরা এবং প্রথমার্ধে কিছু সময়ের জন্য রিয়ালকে চাপে রাখে।
তবে পিছিয়ে পড়ার পর দ্রুতই ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। গোল হজমের দুই মিনিটের মধ্যে সমতা ফেরান মিডফিল্ডার অরেলিয়েন চুয়োমেনি। মাঝমাঠ থেকে ফেদেরিকো ভালভার্দে নেওয়া দূরপাল্লার শট প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগে বিশৃঙ্খলা তৈরি করলে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন চুয়োমেনি। দ্রুত সমতায় ফেরায় ম্যাচের গতি বদলে যায় এবং রিয়াল আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে উভয় দলই কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও আর গোল হয়নি। ফলে ১-১ সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে রিয়াল মাদ্রিদ বল দখল ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। প্রতিপক্ষের অর্ধে ধারাবাহিক আক্রমণ গড়ে তোলে তারা। উইং দিয়ে আক্রমণ, দূরপাল্লার শট এবং সেটপিস—সব দিক থেকেই গোলের চেষ্টা চালাতে থাকে স্বাগতিকরা। প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগ চাপ সামাল দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর কৌশল নেয়।
ম্যাচের ৮০তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পায় রিয়াল। মাঝমাঠ থেকে ভালভার্দের সূক্ষ্ম পাস ধরে বক্সের ভেতরে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জালে পাঠান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল এবং সামগ্রিক স্কোরে তাদের ব্যবধান আরও সুদৃঢ় হয়।
শেষ মুহূর্তে প্রতিপক্ষ সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও রিয়াল রক্ষণভাগ সংগঠিত থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে সময়ক্ষেপণ ও বল দখল কৌশল প্রয়োগ করে তারা। নির্ধারিত সময় শেষে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শেষ ষোলোতে জায়গা পায় স্প্যানিশ ক্লাবটি।
এই জয়ের মাধ্যমে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় রিয়াল মাদ্রিদের ধারাবাহিকতা বজায় থাকল। চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বাধিক শিরোপাজয়ী দল হিসেবে তাদের অভিজ্ঞতা ও নকআউট পর্বে পারফরম্যান্সের ইতিহাস রয়েছে। শেষ ষোলোতে সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হলেও ঘরের মাঠে চাপ সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।


