আবহাওয়া ডেস্ক
দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪ মিনিট ৫ সেকেন্ডে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র (ইএমএসসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা রিখটার স্কেলে ৩.৭ রেকর্ড করা হয়েছে। এর উৎপত্তিস্থল ভারতের সিকিমে এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। ভূমিকম্পটির অবস্থান ২৭.২১১ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৮.২১৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। সেই ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.১ রিখটার এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পূর্বের ভূমিকম্প এবং সাম্প্রতিক কম্পনের মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে, তবে প্রকৃত কারণ নিরূপণের জন্য আরও তথ্য ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, ভারতের সিকিম ও মিয়ানমার অঞ্চলে সক্রিয় টেকটোনিক প্লেট এবং ভূ-গঠনগত পরিবর্তন বাংলাদেশের সীমানার কাছে কম্পন অনুভূত হওয়ার একটি প্রধান কারণ। বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র নিয়মিতভাবে দেশের ভূমিকম্প সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করছে।
বিশেষজ্ঞরা সাধারণ জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। মৃদু ভূমিকম্প সাধারণত উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করে না, তবে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা বা দুর্বল মাটি থাকলে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তারা জরুরি প্রস্তুতি, নিরাপদ স্থান নির্বাচন এবং প্রাথমিক পদক্ষেপ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর উপর জোর দিচ্ছেন।
বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ইতিহাস দীর্ঘ। পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী দেশগুলোতে ঘটে যাওয়া ভূমিকম্প বাংলাদেশের বিভিন্ন অংশে কম্পন সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরূপণের জন্য তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত রয়েছেন।
প্রাকৃতিক এই কম্পনের প্রভাব বিশ্লেষণ করে দেশজুড়ে ভবিষ্যতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ভূমিকম্প সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।


