শিক্ষা ডেস্ক
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাসে নামাজের সময় রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে শিক্ষার্থীরা মধ্যরাতের বিক্ষোভ মিছিল এবং প্রেস ব্রিফিং করেছেন। এই কর্মসূচি গতকাল বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে শহীদ মিনারের সামনে থেকে শুরু হয়।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ঢাকা-৮ আসনের পরাজিত প্রার্থী নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী তার নিয়মিত তারাবি ও জনসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসেন। মসজিদে নামাজ পড়ার অধিকার সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও, নামাজ শেষে তার সঙ্গে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়কে অরাজনৈতিক ক্যাম্পাস হিসেবে রাখার অঙ্গীকারের পরিপন্থী।
প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, আবরার ফাহাদ এবং সাবেকুন্নাহার সনি-সহ অন্যান্য মেধাবী শিক্ষার্থীর প্রাণের বিনিময়ে বুয়েটে একটি অরাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা উল্লেখ করেন, ছাত্ররাজনীতি শুধুমাত্র প্রাণহানি ঘটায়নি, বরং বহু শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ও ক্যারিয়ারও ধ্বংস করেছে।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের একমাত্র পরিচয় হওয়া উচিত শিক্ষার্থী হিসেবে; কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নয়। ক্যাম্পাসটি জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের নিরাপদ ক্ষেত্র হওয়া উচিত, রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ নয়।
বিক্ষোভ ও ব্রিফিংয়ে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা স্পষ্টভাবে জানান, বুয়েটে যেকোনো রাজনৈতিক দলের কোনো কর্মকাণ্ড তারা প্রত্যাখ্যান করবে এবং ভবিষ্যতেও রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস বজায় রাখতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, রাজনৈতিক স্লোগান ক্যাম্পাসের অরাজনৈতিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষাজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।
বুয়েট প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং ক্যাম্পাসের অরাজনৈতিক পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সেসময় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছিল এবং পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও মানসিক নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধ করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থী নেতৃবৃন্দের মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা এই ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন অনলাইন ও সামাজিক মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অরাজনৈতিক ক্যাম্পাসের প্রতি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তারা মনে করেন, বুয়েটের মতো প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ রক্ষা করা দেশের উচ্চশিক্ষার মান এবং শিক্ষার্থীদের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
বিক্ষোভের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীভূত অরাজনৈতিক নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হোক এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।


