জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশ-সাইপ্রাস প্রতিদ্বন্দ্বিতা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশ-সাইপ্রাস প্রতিদ্বন্দ্বিতা

জাতীয় ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচন থেকে ফিলিস্তিন সরে দাঁড়ানোয় আগামী জুনে অনুষ্ঠিতব্য ভোটে এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে। বাংলাদেশের পক্ষে এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ পদে নির্বাচনের জন্য ড. খলিলুর রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছেন। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিল। পরবর্তীতে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়।

প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক রোটেশন নীতিমালা অনুযায়ী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদটি পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বণ্টিত হয়। ৮১তম অধিবেশনের ক্ষেত্রে সভাপতি নির্বাচিত হবেন এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ অব স্টেটস থেকে। এই গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্য থেকেই প্রার্থী মনোনীত হয় এবং সাধারণ পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হন।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী জুন মাসে সভাপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে আগামী সেপ্টেম্বরে। তার আগে নির্বাচনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের মে মাসে বর্তমান ৮০তম অধিবেশনের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক প্রার্থীদের সঙ্গে একটি অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভার আয়োজন করবেন। এ সভায় প্রার্থীরা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের সামনে নিজেদের অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরবেন।

কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ প্রায় চার বছর আগে এ পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছিল এবং এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের অভ্যন্তরে সমর্থন জোরদারের জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। তবে ২০২৬–২৭ মেয়াদের জন্য নির্ধারিত এই পদে ফিলিস্তিন শেষ পর্যায়ে প্রার্থী হিসেবে নাম দেওয়ায় পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে। সম্প্রতি ফিলিস্তিন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানায়। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন সীমিত হয়েছে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে বাংলাদেশ নির্বাচনে থাকছে কি না—এ নিয়ে কিছু কূটনৈতিক মহলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক বাংলাদেশকে প্রার্থিতা অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ জানায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করে।

বাংলাদেশের জন্য এ নির্বাচন কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। প্রায় চার দশক পর দেশটি আবারও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে নির্বাচনের সম্ভাবনার মুখোমুখি হয়েছে। সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে ৪১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। তাঁর নেতৃত্বে সে সময় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি বৈশ্বিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি অধিবেশনের কার্যক্রম পরিচালনা, বিভিন্ন এজেন্ডা নির্ধারণে সমন্বয় এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করেন। আন্তর্জাতিক শান্তি, উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে সাধারণ পরিষদের আলোচনায় সভাপতির ভূমিকা প্রভাব ফেলে।

এ প্রেক্ষাপটে আগামী জুনের নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস উভয় দেশই কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন নিশ্চিত করাই হবে নির্বাচনে বিজয়ের প্রধান উপাদান। সেপ্টেম্বরে নতুন অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই সভাপতি নির্বাচনের মাধ্যমে ২০২৬–২৭ মেয়াদের জন্য নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ