জাতীয় ডেস্ক
সৌদি আরবের জেদ্দায় ফিলিস্তিন বিষয়ক ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নির্বাহী কমিটির বৈঠকের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৈঠকগুলোতে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং বহুপাক্ষিক পরিসরে সমর্থন আদায়ের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, জেদ্দায় পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ আলখারিজি, তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়া, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আগাবেকিয়ান এবং গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওআইসি নির্বাহী কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমানার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে বাংলাদেশের অটল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিন প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান ঐতিহাসিক ও নীতিগত। জবাবে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের ধারাবাহিক সমর্থনের প্রশংসা করেন এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি সমর্থনের আশ্বাস দেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। ইসহাক দার জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানাতে ঢাকা সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। নতুন সরকারের অধীনে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে সমন্বয়ের বিষয়ও উঠে আসে।
তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ-তুরস্কের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও মানবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত হন। রোহিঙ্গা সংকটে তুরস্কের অব্যাহত সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেওয়া হয়। এ সময় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানকে রমজানের পর বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। সৌদি প্রতিনিধি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিগগিরই সৌদি আরব সফর করবেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ জানান। সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মপরিকল্পনার আওতায় বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাতগুলোর কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ওআইসি সচিবালয়ের কার্যকারিতা বাড়াতে গৃহীত সংস্কার উদ্যোগে বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করেন সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে গাম্বিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করেন ড. খলিলুর রহমান। বিশেষ করে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার প্রসঙ্গ উঠে আসে। রোহিঙ্গা সংকটের আন্তর্জাতিকীকরণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত হন। আগামী এপ্রিলে বাগদাদে অনুষ্ঠিতব্য ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বৈঠকের সময় রোহিঙ্গা ইস্যুতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকগুলোতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার বিষয়ে সমর্থন আদায়ের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও গুরুত্ব পায়। আফ্রিকান দেশগুলোর সমর্থন নিশ্চিত করার বিষয়ে গাম্বিয়ার পক্ষ থেকে ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়া হয়।
এসব বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসি বৈঠকের প্রেক্ষাপটে এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনাগুলোকে বাংলাদেশের বহুমাত্রিক কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


