ভূমি সেবায় ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর ঘোষণা, দালালচক্র দমনে কঠোর অবস্থান

ভূমি সেবায় ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর ঘোষণা, দালালচক্র দমনে কঠোর অবস্থান

জাতীয় ডেস্ক

ভূমিসংক্রান্ত জনভোগান্তি কমাতে এবং সেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে সারা দেশে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ভূমি অফিসে অনিয়ম ও দালালচক্রের কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি নিরসনে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং ভূমি ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার রাজশাহী মহানগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ভূমিমন্ত্রী জানান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের আধুনিকায়নের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সেবাপ্রার্থীদের অপ্রয়োজনীয় দপ্তর ঘোরার প্রবণতা কমানো। বর্তমানে ভূমি সংক্রান্ত নানা সেবা—খতিয়ান ও পর্চা উত্তোলন, নামজারি, জমির রেকর্ড সংশোধন, ভূমি উন্নয়ন কর সংক্রান্ত কাজ—সম্পন্ন করতে সাধারণ মানুষকে একাধিক অফিস ও টেবিলে ঘুরতে হয়। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু হলে একজন সেবাগ্রহীতা এক জায়গা থেকেই আবেদন জমা দিতে এবং সংশ্লিষ্ট সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে দালাল নির্ভরতা কমবে এবং সেবা প্রাপ্তির সময়সীমা হ্রাস পাবে। সরকারের লক্ষ্য হলো উন্নত বিশ্বের আদলে প্রযুক্তিনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক ভূমি প্রশাসন গড়ে তোলা।

মন্ত্রী জানান, জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ের পাশেই এসব ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে প্রশাসনিক সমন্বয় সহজ হবে এবং আইনি সহায়তা ও রেকর্ড সংক্রান্ত কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সেবার মান নির্ধারণের বিষয়েও কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভূমি খাতে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ দেশের দেওয়ানি মামলার বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে। রেকর্ড সংরক্ষণে অসংগতি, পুরোনো নথির জটিলতা এবং সঠিক তথ্যপ্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা বিরোধ বাড়াতে ভূমিকা রাখে। এসব সমস্যা সমাধানে ধাপে ধাপে ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ ও তথ্যভাণ্ডার সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ ছাড়া ভরাট হয়ে যাওয়া পুকুর পুনঃখননের বিষয়েও সরকার পদক্ষেপ নেবে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবেশ ও জলাধার রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অবৈধ দখলদার বা ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

ভূমি খাত বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জমির মালিকানা, উত্তরাধিকার, নামজারি ও রেকর্ড সংক্রান্ত জটিলতা সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেবা সহজীকরণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে জমি সংক্রান্ত বিরোধ কমানো এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হবে।

ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, জনবল ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে সরকার ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভূমি ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসতে পারে এবং সেবাপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি হ্রাস পাবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ