আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে সংঘর্ষ: কাবুল আলোচনার জন্য প্রস্তুত

আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে সংঘর্ষ: কাবুল আলোচনার জন্য প্রস্তুত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আফগানিস্তানের তালেবান সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষ সমাধানে সংলাপের মাধ্যমে আলোচনা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন বড় শহরে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ২৭৪ জন নিহত হওয়ার পর তালেবান এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

তালেবান সরকারের মুখপাত্র মৌলভী জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জানান, যুদ্ধে শুরু করার দায় পাকিস্তানের। আফগানিস্তান তার আত্মরক্ষা ও ভূখণ্ড রক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছে। তিনি বলেন, “পাকিস্তান যদি যুদ্ধ অব্যাহত রাখে, আমরা প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপে এগোব। আমরা পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছি যা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে আমাদের হাত তাদের গলার কাছে পৌঁছাতে পারে।”

মুজাহিদ আরও বলেন, আফগানিস্তান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তানের সুসম্পর্ক পাকিস্তানের বিরুদ্ধ নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আফগানিস্তান কখনোই কোনো দেশের নিয়ন্ত্রণে ছিল না এবং থাকবে না।” তালেবান সরকারের বর্তমান বৈদেশিক নীতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নেতাদের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পৃক্ততার ওপর ভিত্তি করছে।

তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত প্রসঙ্গে মুজাহিদ বলেন, এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এই সংঘাত তালেবান ক্ষমতায় ফিরে আসার আগে থেকেই চলছিল। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো আফগানিস্তানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যৌক্তিক নয়।”

মুজাহিদ আফগানিস্তানের সামরিক প্রতিক্রিয়াকে আত্মরক্ষার বৈধ দাবি হিসেবে ব্যাখ্যা করেন এবং বলেন, কাবুল সংলাপের পক্ষে রয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান এখনও আফগান সরকারের অগ্রাধিকার। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, আক্রমণ অব্যাহত থাকলে আফগান প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপও অব্যাহত থাকবে।

গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় ডুরান্ড লাইন এলাকায় আফগান সেনা পাকিস্তানের সেনাচৌকিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এ হামলায় অন্তত ৫৫ পাকিস্তানি সেনা নিহত হন এবং কিছু সেনাকে আটক করা হয়। মুজাহিদ জানান, এই হামলা ২১ ফেব্রুয়ারি নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে চালানো হয়। ওই বিমান অভিযানে ৮০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল।

হামলা শেষে আফগান সেনারা রাত ১২টার দিকে ফিরে আসার পর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পাকিস্তান ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ নামে প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করে। পাকিস্তানি বিমান বাহিনী (পিএএফ) রাজধানী কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এতে ২৭৪ জন তালেবান সদস্য ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য নিহত হয় এবং ৪০০-এর বেশি আহত হয়।

সংঘর্ষের এই ঘটনা আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে অস্থিরতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করছে। দুই দেশের মধ্যে সংলাপ এবং আঞ্চলিক সমঝোতা ছাড়া এই ধরনের উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ